হোম > সারা দেশ > যশোর

সংস্কারের নামে ইট তুলে নিয়ে গেছেন চেয়ারম্যান, দুর্ভোগ

আনোয়ার হোসেন, মনিরামপুর (যশোর)

যশোরের মনিরামপুরে সংস্কারের কথা বলে রাস্তার পুরোনো ইট তুলে নিয়ে গেছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এ ঘটনার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও রাস্তাটিতে সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। এখন ইটের সলিং তুলে নেওয়া অংশে মাটির রাস্তায় চলাচলে ভোগান্তিতে পড়েছে স্থানীয়রা। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে কাদাপানিতে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। উপজেলার মনিরামপুর সদর ইউনিয়নের বাকোশপোল গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয়রা জানান, গত ঈদুল আজহার আগে মনিরামপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক রাস্তা থেকে পুরোনো ইট তুলে নিয়ে যান। ৭-৮ বছর ধরে একটু একটু করে রাস্তাটিতে ইটের সলিং হয়েছিল। সেই সলিং তুলে নেওয়ায় এখন জায়গায় জায়গায় কাদা জমেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৭০ হাজার ৫১০ টাকা ব্যয়ে মনিরামপুরের শ্যামকুড়, হেলাঞ্চি ও বাকোশপোল গ্রামে ১ দশমিক ৯৮০ কিলোমিটার রাস্তা হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) সলিংয়ের দরপত্র আহ্বান করা হয়। জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার মেসার্স তন্নী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবু হুরায়রা কাজটি পেয়েছেন। কাজের মেয়াদ ছিল গত ৩১ মার্চ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাকোশপোল গ্রামের আব্দুল কাদের চৌকিদারের বাড়ির সামনে থেকে গোবিন্দ মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত আনুমানিক ৭০০ ফুট অংশের ইট খুলে নেওয়া হয়েছে। মসজিদের সামনে ও মন্দিরের কাছে ইট খুলে নেওয়া অংশে বৃষ্টির পানিতে কাদার সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঠিকাদার হেলাঞ্চি ও শ্যামকুড় অঞ্চলের কাজ শেষ করেছেন। তবে বাকোশপোল গ্রামের ৬৫০ মিটার রাস্তার কাজ এখনো শুরু করেননি তিনি।

জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক বলেন, ‘পুরোনো ইটের সলিং আমাদের পরিষদের ছিল, সেটা আমরা তুলে নিয়েছি। কিছু ইট কাজে লাগানো হয়েছে। কিছু ইট পরিষদে স্তূপ করে রাখা আছে।’ চেয়ারম্যান বলেন, ‘ইট তুলে নেওয়ার পর বৃষ্টির কারণে ঠিকাদার কাজ করতে পারেননি। আমি বহুবার ঠিকাদারের সঙ্গে এবং পিআইও দপ্তরে কথা বলে কাজ সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেও বিপদে আছি।’

ঠিকাদার আবু হুরায়রা বলেন, একটি রাস্তার (বাকোশপোল) কাজ বৃষ্টির কারণে করা সম্ভব হয়নি। অতি দ্রুত রাস্তার কাজ শুরু করে সম্পন্ন করব।

মনিরামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সেলিম খান বলেন, ‘কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ঠিকাদার আর সময় বাড়ানোর আবেদন করেননি। আমরা ঠিকাদারকে কাজ শেষ করতে তাগিদ দিচ্ছি। কাজ না করলে তাঁকে বিল দেওয়া হবে না।’