খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। শুধু মাদক কারবারি বা ক্যারিয়ার (বাহক) নয়, মাদকের গডফাদারদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে তাদের আয়ের উৎস অনুসন্ধান করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য মাদক-সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাঁকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
আজ বুধবার বিকেলে যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মোস্তাফিজুর রহমান এসব কথা বলেন।
ডিআইজি বলেন, মাদক নির্মূলে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছোট-বড় কেউই আইনের বাইরে থাকবে না। শুধু ক্যারিয়ারদের ধরলে হবে না, যারা এই ব্যবসার মূল হোতা বা গডফাদার, তাদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে তাদের সম্পদ ও আয়ের উৎস তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিআইজি আরও বলেন, মাদক নির্মূল শুধু পুলিশের একার দায়িত্ব নয়। এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। সমাজভিত্তিক সচেতনতা এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলেই মাদকের ভয়াবহতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। খুলনা বিভাগের প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারকে কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, নিয়মিত অভিযান এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কিশোর গ্যাং সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। এই চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনোভাবেই তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।
ডিআইজি বলেন, অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ টিম গঠন করা হবে। এই দল সার্বক্ষণিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পর্যবেক্ষণ করবে এবং জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে যারা অনলাইন জুয়া পরিচালনা করছে, তাদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পৌঁছালে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে তিনি কার্যালয় প্রাঙ্গণে একটি জলপাই গাছের চারা রোপণ করেন।
এ সময় যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিবুল ইসলাম, মিরাজুল ইসলাম, সাখাওয়াত হোসেন, আহসান হাবিবসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।