যশোর শহরের বেজপাড়া পিয়ারী মোহন সড়কের ফুটপাতজুড়ে সারা দিনই পড়ে থাকে গৃহস্থালি ও দোকানপাটের পরিত্যক্ত বর্জ্য। অনেক সময় ময়লার স্তূপ সড়কের ওপর ছড়িয়ে পড়ায় ছোটখাটো সড়ক দুর্ঘটনাও ঘটছে।
পচা বর্জ্যের দুর্গন্ধ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও কুকুরের উৎপাত থেকে মুক্তি চেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা যশোর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। অথচ প্রতি মাসে যশোর পৌরসভা
কর্তৃপক্ষ শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে কোটি টাকা খরচ করছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বেজপাড়া পিয়ারী মোহন সড়কের ফুটপাতের এক পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা। ফুটপাতে বেঁধে পালন করা হয় গরু। গৃহস্থালির বর্জ্যের সঙ্গে গবাদিপশুর বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধের কারণে পথচারীরা নাক চেপে চলাচল করছেন।
শহরের রেলগেট ডোমার হোটেলের পাশে শামছুর রহমানের বাড়ির সামনে ডাস্টবিনের বাইরে গৃহস্থালি বর্জ্য, কোথাও ড্রেনের ওপর পচা ময়লা। সেই ময়লা ছাপিয়ে রাস্তার ওপর পড়েছে। শুধু এই দুটি স্থান নয়, যশোর শহরের ৯টি ওয়ার্ডে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় সড়ক, আবাসিক এলাকার অনেক জায়গা ময়লার স্তূপে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এটি কোনো নির্ধারিত ডাম্পিং স্থান নয়, তবু অবাধে এখানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বাজার থেকে রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলে করে ওই সড়কের পাশে পচা গৃহস্থালি বর্জ্য, মাছ ও মুরগির নাড়িভুঁড়ি, গোবর, পশুর বর্জ্য, মৃত প্রাণীসহ নানা ধরনের দুর্গন্ধযুক্ত আবর্জনা ফেলা হয়। ময়লা ফেলা নিষিদ্ধ উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টাঙিয়েও কোনো সুফল মিলছে না।
যশোর পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরের বর্জ্য অপসারণে যশোর পৌরসভার ৬০৩ পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ১০টি ছোট ও দুটি বড়সহ মোট ১২টি বর্জ্যবাহী ট্রাক এবং ওয়ার্ডভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে। শুধু ৬০৩ কর্মীর দৈনিক মজুরি বাবদই পৌরসভার ব্যয় হয় তিন লাখ দেড় হাজার টাকা। মাসে ৯০ লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং বছরে ১১ কোটি চার লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে ট্রাকের জ্বালানি, চালক ও সহকারীদের বেতন, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ, ডাম্পিং ও অন্যান্য ব্যয় যোগ হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রকৃত খরচ আরও বাড়ছে।
পৌর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যশোর শহরে প্রতিদিন প্রায় ৮০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। মাসে প্রায় ২ হাজার ৪০০ টন। প্রতিদিনের ৮০ টন বর্জ্যের বিপরীতে শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মজুরি হিসেবে প্রতি টনে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৭৬৯ টাকা। অর্থাৎ বছরে ২৯ হাজার ২০০ টন বর্জ্যের বিপরীতে শ্রমিকদের মজুরি বাবদ ব্যয় ১১ কোটি ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। ট্রাক, জ্বালানি, ডাম্পিং, চালক, সহকারী, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য ব্যয় বাদ দিয়েই এই হিসাব। তবু শহরের বর্জ্য পড়ে থাকছে যত্রতত্র।
যশোর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা জায়েদ হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সর্বশেষ সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, সকাল ৯টার মধ্যে শহরের দৈনন্দিনের বর্জ্য অপসারণ কাজ শেষ করার। কিন্তু মণিহারসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানজট থাকায় বর্জ্যবাহী গাড়িগুলো নির্ধারিত সময়ে ফিরে আসতে পারে না। ফিরে আসতে সময় লাগায় ময়লা অপসারণের কাজও পিছিয়ে যায়।’
জায়েদ হোসেন আরও বলেন, ‘বর্জ্য অপসারণের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডের একটি করে গাড়ি রয়েছে। কোনো ওয়ার্ডের গাড়ি বিকল হলে পাশের ওয়ার্ডের গাড়ি দিয়ে সেখানে সাময়িকভাবে বর্জ্য অপসারণের কাজ চালানো হয়। ওই গাড়িকে আগে নিজের ওয়ার্ডের কাজ শেষ করে অন্য ওয়ার্ডে যেতে হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বর্জ্য অপসারণে সময় বেড়ে যায়।’