যশোরের দুঃখখ্যাত ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে যে মানুষটি লড়াই-সংগ্রাম করেছিলেন, তিনি রণজিৎ বাওয়ালী। কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে এসেও তাঁর স্বপ্ন পূরণ হয়নি। সেই কষ্ট নিয়েই চলে গেলেন যশোরের ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজিৎ বাওয়ালী। যিনি একজন চারণ কবি, গীতিকার ও সুরকার হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
আজ বুধবার বেলা দেড়টার দিকে অভয়নগর উপজেলার ডুমুরতলা গ্রামের নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভবদহ অঞ্চলের মানুষের আন্দোলনের অনুপ্রেরণার মানুষটি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা রাজনীতিক ইকবাল কবির জাহিদ তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আজ সন্ধ্যায় নওয়াপাড়া মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এর আগে লাল পতাকায় আবৃত করে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন রাজনীতিক ও সামাজিক অঙ্গনের নেতা-কর্মীরা।
রণজিৎ বাওয়ালী ছোটবেলায় বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে প্রথমে তিনি নিজ এলাকায় কমরেড নুরুজ্জামান সরদারের সহযোগী হিসেবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। যুদ্ধে অংশ নেন কেশবপুরে। ১৯৮৫ সালে ভবদহে জলাবদ্ধতা দেখা দিলে তিনি জনমত গড়ে তোলেন। ২০০৫ সালে সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচিত হন রণজিৎ। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি অসংখ্য গান লিখেছেন। তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। যার একটি বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে। চারণ কবি হিসেবে তিনি বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমিসহ বেশ কয়েকটি পুরস্কার লাভ করেছেন।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির সদস্যসচিব চৈতন্য পাল বলেন, ‘রণজিৎ বাওয়ালীর বাড়ি যশোরের দুঃখ ভবদহ অঞ্চলে। তাঁর বাড়িও এখনো জলাবদ্ধতায়। জীবনের শেষ সময়ে স্থায়ী কোনো সমাধান দেখে যেতে না পারার সেই গভীর আক্ষেপ ও বুকভরা বেদনা নিয়েই তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত হতে হলো।’