যশোরে স্কুলছাত্রী শিপ্রা ঘোষকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার অভিযোগে ইসকনের আট সদস্যের নামে মামলা হয়েছে। আজ রোববার নিহত শিপ্রার ভাই সদর উপজেলার চাঁচড়া রাজবাড়ি এলাকার পাপন কুমার ঘোষ এ মামলা করেছেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়েছে কি না, প্রতিবেদনসহ আদালতে জমা দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি)।
মামলার আসামিরা হলেন একই এলাকার অনুপম রায় ওরফে অপার গোবিন্দ দাস (৪০), সাধন অধিকারী (৫৮), রাম অধিকারী (৫৫), অর্জুন দাস, পার্থ দাস, পবিত্র, সঞ্জয় ও রঘু।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী এম এ গফুর।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, আসামিরা ইসকনের সদস্য। শিপ্রা ভাতুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে আসামি অনুপম রায় অন্যদের সহযোগিতায় শিপ্রাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত, যৌন হয়রানি ও কুপ্রস্তাব দিতেন। এতে রাজি না হওয়ায় আসামিরা শিপ্রার ক্ষতি করার সুযোগ খুঁজতে থাকেন।
১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাদী ও তাঁর ভাই বাড়িতে না থাকার সুযোগে আসামিরা ছুরি, চাকুসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে পাপন কুমার ঘোষের চাঁচড়া রাজবাড়িতে হামলা করেন। এ সময় বাড়িতে থাকা শিপ্রাকে যৌন হয়রানি ও মারধর করেন তাঁরা। তার চিৎকারে বৃদ্ধ মা এগিয়ে গেলে তাঁকেও মারধর করে গুরুতর জখম করেন আসামিরা। এর মধ্যে আসামিরা তার বৃদ্ধ মাকে ঘর থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে শিপ্রাকে এলোপাতাড়ি মারধরের পর আসামি অনুপম অন্যদের সহযোগিতায় গামছা দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে হত্যা নিশ্চিত করেন।
পরে শিপ্রার ওড়না দিয়ে তাকে ঘরের বাঁশের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে দিয়ে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে আসামিরা চলে যান। পরে পাপন কুমার ঘোষ ও তাঁর ভাই বাড়িতে ফিরে শিপ্রাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। পরে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে আদালতে এ মামলা করা হয়েছে।