ভবদহ অঞ্চলের ভয়াবহ জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে পানিসম্পদমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া না হলে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
আজ রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পানিসম্পদমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, টানা বর্ষণে যশোরের মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর এবং খুলনার ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার ভবদহ এলাকার দুই শতাধিক গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক ডুবে যাওয়ায় হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক পরিবার গবাদিপশু নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি মানবিক বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, ভবদহ সমস্যা সমাধানে আমডাঙ্গা খাল সংস্কার, হরি নদীসহ সংশ্লিষ্ট নদী খনন এবং জনগণের মতামতের ভিত্তিতে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা চলছে। এতে সংকট আরও প্রকট হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের কার্যাদেশ দুই বছর আগে দেওয়া হলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি। অথচ এই খাল দিয়ে ভবদহ এলাকার প্রায় ২৫ শতাংশ পানি নিষ্কাশনের সুযোগ রয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির।
এতে আরও বলা হয়, ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার হরি ও ভদ্রা নদী খনন প্রকল্পের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। নদী খননের সময় খর্ণিয়া সেতুর দক্ষিণ পাশে নির্মিত অস্থায়ী বাঁধ এবং জমে থাকা পলি অপসারণ না করায় এবারের বর্ষায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তাই খর্ণিয়া থেকে কুলবাড়িয়া পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার নদীপথের পলি অপসারণ এবং সব অস্থায়ী বাঁধ সরানোর দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, নদী খননের পাশাপাশি টিআরএম বাস্তবায়ন না করায় প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। আইডব্লিউএমের সমীক্ষা ও জাতীয় কর্মশালায় অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে টিআরএম বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো ১. জরুরি ভিত্তিতে আমডাঙ্গা খাল সংস্কার সম্পন্ন এবং বিলম্বের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। ২. খর্ণিয়া দক্ষিণ পাশের বাঁধসহ সব অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ এবং খর্ণিয়া থেকে কুলবাড়িয়া পর্যন্ত নদীর পলি অপসারণ। ৩. আইডব্লিউএমের সুপারিশ অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে টিআরএম বাস্তবায়ন এবং নদী খননের সঙ্গে সমন্বিত সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ। ৪. পানিবন্দি মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, ‘ইতিমধ্যে দুই শতাধিক গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামী ৩ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।’
এ সময় সংগঠনের উপদেষ্টা তসলিম-উর-রহমান, সদস্যসচিব চৈতন্য কুমার পাল, সদস্য জিল্লুর রহমান ভিটু, অনিল বিশ্বাস, শেখর রায়, মাসুদ শেখ, সাধন বিশ্বাস, বিকাশ চন্দ্র মল্লিক, পলাশ বিশ্বাস ও রাজু আহমেদসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।