ধর্মকে পুঁজি করে সস্তা রাজনীতির মাধ্যমে যারা বাংলাদেশে বিভক্তি ও অশান্তি সৃষ্টির চক্রান্ত করবে, তাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
আজ শুক্রবার দুপুরে যশোর শহরের টাউন হল ময়দানে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ কেউ ধর্মকে ব্যবহার করে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায় এবং সমাজে বিভক্তির রেখা টেনে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চায়। ধর্মকে পুঁজি করে যারা বাংলাদেশকে বিভক্ত করতে চাইবে, তারা যেকোনো দলের নেতা বা যেকোনো ধর্মের অনুসারীই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিকভাবেও তাদের বয়কট করা হবে।’
ধর্মবিশ্বাসের কারণে কেউ যাতে বৈষম্যের শিকার না হয়—তা বর্তমান সরকার নিশ্চিত করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিশ্চিত করছেন—কোনো ধর্মবিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে সমাজের কোনো মানুষ যেন পিছিয়ে না পড়ে বা বঞ্চিত না হয়। ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন করে তৈরি হওয়া এই আশাকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
যশোর জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু এবং যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালন করেন। পরে টাউন হল ময়দান থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বী অংশ নেন।
এদিকে শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি উপলক্ষে যশোরের বিভিন্ন মন্দির, মঠ ও পূজামণ্ডপে দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে গীতাযজ্ঞ, কীর্তন, আরতি ও প্রসাদ বিতরণসহ নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়।