যশোর শহরের মণিহার এলাকায় অবস্থিত মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়স্তম্ভ। এটি ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হয়। বিজয়স্তম্ভের ওই স্মারকে লেখা আছে—‘মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী বীর শহীদদের স্মরণে বিজয়স্তম্ভ/ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন/জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান/ ১৯৭২ সাল, ২৬ ডিসেম্বর।’ প্রতিবছর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস ও ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে যশোরবাসী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এই বিজয়স্তম্ভে। এ বছরও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে যশোরবাসী শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। কিন্তু এবার বিজয়স্তম্ভে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামফলক গাঢ় কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এমন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে যশোরে স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়। দিনের প্রথম ভাগে বিজয়স্তম্ভে জেলা প্রশাসক আশেক হাসানের পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শুরু হয়। তারপর একে একে প্রশাসন, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধা জানান।
বিজয়স্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় দেখা যায়, স্তম্ভের নিচের অংশটুকু একটি গাঢ় সবুজ রঙের কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা। তার ওপরে ‘মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী বীর শহীদদের স্মরণে, এই লেখাটুকু দৃশ্যমান রয়েছে। বিজয়স্তম্ভের বেদিতে লাল কার্পেট দেওয়া হয়। পাশে শামিয়ানা টাঙানো একটি জায়গা থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বের ধারাবিবরণী দেওয়া হচ্ছিল।
সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আফজাল হোসেন দোদুল বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় বিজয়স্তম্ভে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামফলক কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখছে। এটা ইতিহাস বিকৃতির অংশ হিসেবেই করা হচ্ছে। ইতিহাসে যার যতটুকু সম্মান প্রাপ্য, তাঁকে ততটুকু দিতে হবে।’
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মযহারুল ইসলাম মন্টু বলেন, ‘এ রকমটা হবে বলে আমরা একটা পক্ষ বিজয়স্তম্ভে যাইনি। ইতিহাস কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না। এটা নোংরামি।’
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হারুন অর রশিদ বলেন, ‘গত বছরও কাপড় দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামফলক ঢেকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু বিজয়স্তম্ভ চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ছিল। কিন্তু এবার বিজয়স্তম্ভ পরিষ্কারও করেনি। প্রশাসনের ভেতরে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির লোকজন বেশি বলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা এই কাজটি অন্যায় করেছেন। স্বাধীনতার প্রতি অন্যায় করেছেন। তাঁদের শাস্তি হওয়া উচিত।’
এ বিষয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক আব্দুল মালেক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি চোখ বন্ধ করে গেছি, চোখ বন্ধ করে এসেছি। তাঁরা (প্রশাসন) এ চেতনার লোক নন। ইতিহাস কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না। এটা নোংরামি।’
জানতে চাইলে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে এভাবেই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে। এবারই প্রথম নয়। বিজয়স্তম্ভ ব্যবস্থাপনার একটি উপকমিটি আছে। তাঁরা সৌন্দর্যবর্ধনের কাজটি করেন। মূলত সৌন্দর্যবর্ধনের জন্যই বিজয়স্তম্ভে অন্য বছর সাদা কাপড় ব্যবহার করা হয়। এ বছর গাঢ় সবুজ কাপড় ব্যবহার করেছে। বিজয়স্তম্ভ সংস্কার না হওয়ায় এমনটি করা হয়েছে। বিজয়স্তম্ভ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।