যশোরের চৌগাছায় ছেলের মোবাইল ফোন দেখাকে কেন্দ্র করে রুপা খাতুন (৩০) এবং বাবার ওপর অভিমান করে জীবন বিশ্বাস (১৬) নামের এক কিশোরের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। রুপা উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের আরাজি সুলতানপুরের প্রবাসী সুজন হোসেনের স্ত্রী এবং জীবন বিশ্বাস একই ইউনিয়নের দুলালপুর গ্রামের আলতাফ বিশ্বাসের ছেলে। আজ বেলা ২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের আরাজি সুলতানপুর ও দুলালপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রুপা খাতুনের (৩০) স্বামী সুজন হোসেন প্রবাসে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। রুপা দুই সন্তানের জননী। বড় সন্তান আরাফাত হোসেনের মোবাইল দেখাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের সূত্রপাত হয়। সেই জেদ (ক্রোধ) থেকে শুক্রবার দুপুরে রুপা শয়নকক্ষে নিজের ব্যবহৃত ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।
পরে দেবর আব্দুল করিম ও শ্বশুর ইয়াকুব আলী রুপাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে ডাকচিৎকার দিলে অন্য স্বজনেরা এসে ঘরের দরজা ও ভেন্টিলেটর ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় বেলা ২টা ১০ মিনিটে তাঁকে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক ফারিয়া সুলতানা প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রুপাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে একই দিন দুপুর ১২টার দিকে বাবার ওপর অভিমান করে জীবন বিশ্বাস গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পেরে তাকে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৪টার দিকে জীবনের মৃত্যু হয়।
দুটি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চৌগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল আমিন শিকদার। তিনি জানান, এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।