ভারতে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে আটক হওয়া ৫ থেকে ১০ বছর বয়সী ২০ বাংলাদেশি শিশুকে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠানো হলো। আজ বুধবার সন্ধ্যায় ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব শিশুকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। ফেরত আসা শিশুদের বাড়ি নড়াইল, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও পোর্ট থানা-পুলিশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শিশুদের গ্রহণ করেছে তিনটি মানবাধিকার সংস্থা। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি ৫ জন, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার ৬ জন এবং রাইটস যশোর ৯ শিশুর দায়িত্ব নেয়।
পুলিশ ও মানবাধিকারকর্মীরা জানান, এসব শিশু বিভিন্ন সময়ে পরিবারের সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে গিয়েছিল। সম্প্রতি ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় শুরু হলে তাদের পরিবারের সদস্যরা দেশে ফেরার প্রস্তুতি নেন। এ সময় কেউ কেউ দেশে ফিরতে পারলেও অনেক শিশু ভারতীয় পুলিশ ও বিএসএফের হাতে আটক হয়। পরে আদালতের নির্দেশে শিশুদের বিভিন্ন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের আশ্রয়ে রাখা হয়। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। ফেরত আসা শিশুদের মধ্যে কেউ এক বছর, কেউ ছয় মাস আগে আটক হয়েছিল।
দেশে ফিরে আসা এক শিশু জানায়, ‘আমি আমার মা-বাবার সাথে ফিরছিলাম। পুলিশ মা ও আমাকে ধরেছিল। বাবা পালিয়ে গিয়েছিল। এখন আমি একাই দেশে ফিরেছি।’
শিশুদের নিতে আসা স্বজন রহিমা জানান, ভারতে ধরপাকড়ের কারণে দেশে ফেরার সময় তাঁর মেয়ে, জামাই ও নাতনি আটক হয়েছিল। এখন কেবল নাতনি ফিরেছে।
রাইটস যশোরের কাউন্সিলর বজলুর রহমান বলেন, এসব শিশুর প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং ও পরিবারের কাছে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
বেনাপোল পোর্ট থানার উপপরিদর্শক নজরুল ইসলাম বলেন, ইমিগ্রেশন পুলিশের কার্যক্রম শেষে শিশুদের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।