ভারতে পাচারের শিকার ছয় বাংলাদেশি নারী কারাভোগ শেষে ট্রাভেল পারমিটে দেশে ফিরেছেন। আজ বুধবার বিকেলে ভারতের পেট্রাপোল চেকপোস্ট দিয়ে তাঁদের বেনাপোল চেকপোস্টে ফেরত দেয় ভারতীয় পুলিশ। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুনর্বাসনের জন্য তাঁদের মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
হস্তান্তর প্রক্রিয়ার সময় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বেনাপোল ও হরিদাসপুরের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি, বিএসএফ, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ভারত সরকারের ব্যুরো অব ইমিগ্রেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হায়দরাবাদের এফআরআরও অফিস থেকে গত ২৯ মে ও ১২ জুন দেওয়া ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিশ’ এবং ‘এক্সিট পারমিট’ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই বাংলাদেশিদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। তাঁদের বয়স ১৮ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোর্তজা জানান, তাঁরা বিভিন্ন সময় দালালের প্ররোচনায় ভারতে পাচার হয়েছিলেন। পরে সেখানকার পুলিশের হাতে আটক হলে হায়দরাবাদ জেলখানায় তিন বছর সাজাভোগ শেষে আদালত থেকে বিভিন্ন শেল্টার হোমে পাঠানো হয়।
সৈয়দ মোর্তজা আরও জানান, পরে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি চালাচালির একপর্যায়ে তাঁদের স্বদেশে ফেরত পাঠানোর বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফেরত আসা নারীদের আইনি সহায়তা ও পরবর্তী পুনর্বাসনের জন্য বেনাপোল পোর্ট থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আশরাফ হোসেন জানান, ইমিগ্রেশন ও পোর্ট থানা-পুলিশের আইনি প্রক্রিয়া শেষে ফেরত আসা নারীদের আইনি সহায়তা ও পরবর্তী পুনর্বাসনের জন্য মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সংস্থাটি তাঁদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম বলেন, ফেরত আসা নারীদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আপাতত তাঁদের জিম্মায় যশোর হোমে রাখা হবে।