হোম > সারা দেশ > যশোর

মায়ের ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু, বউ-শাশুড়ির বিরুদ্ধে ছেলের অভিযোগ

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

মনিরামপুরে মেয়ের শাশুড়িকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে আটক সুনীতা দাস ও মিতা দাস। ছবি: সংগৃহীত

‘আমার মা সকালে কাজে গিয়ে দুপুরে ফিরেছিল। আমি মাকে বাড়িতে রেখে বিকেলে ভ্যান চালাতে গিয়েছিলাম। মা সুস্থ ছিল। আমার সঙ্গে কথা বলেছে। রাতে মনিরামপুর বাজারে থাকতেই ফোনে শুনি, আমার মা বেঁচে নেই। তড়িঘড়ি বাড়ি এসে দেখি, মায়ের লাশ বারান্দায় শোয়ানো। থুতনির নিচে কাটা দাগ, রক্ত বের হয়ে আছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাতের চিহ্ন। বাড়িতে আমার বউ ও শাশুড়ি ছিল। তারা দুজন মিলে আমার মাকে মেরে ফেলেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার শিরালি মদনপুর গ্রামের ঋষিপল্লির বাসিন্দা হৃদয় দাস। তাঁর মা পুষ্পা দাসের (৪৫) শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে আকস্মিক মৃত্যু হয়। তিনি মৃত রঞ্জন দাসের স্ত্রী।

হৃদয় দাস ও স্থানীয়দের অভিযোগ, পুষ্পা দাসকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন তাঁর পুত্রবধূ মিতা দাস (২২) ও মিতার মা সুনীতা দাস (৪৫)। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে হৃদয়ের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মিতা ও সুনীতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গতকাল রোববার দুপুরে পুষ্পা দাসের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনায় অভিযোগ ওঠায় মিতা দাস ও সুনীতা দাসকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুষ্পা দাসের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছিল।

অভিযুক্ত সুনীতা দাস একই উপজেলার খেদাপাড়া ঋষিপল্লির বলাই দাসের স্ত্রী।

হৃদয় দাসের অভিযোগ, তাঁর শাশুড়ি সুনীতা দাস এর আগেও একাধিকবার তাঁদের বাড়িতে এসে তাঁর মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করেছেন এবং তাঁকে মারধর করেছেন। শনিবার রাতে তাঁর স্ত্রী ও শাশুড়ি মিলে তাঁর মাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুনীতা দাস বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যায় হৃদয়ের মা ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। আমি, আমার মেয়ে ও নাতি মিলে দোকানে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি পুষ্পা দিদি বারান্দার কোনায় মরে পড়ে আছে।’

মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, নিহত পুষ্পা দাসের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করানো হয়েছে।

ওসি বলেন, ‘অভিযুক্ত মিতা দাস ও সুনীতা দাস আমাদের হেফাজতে আছে। নিহতের ছেলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এজাহার গ্রহণ করছি।’