দেশে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম কম থাকায় এবারও ভারত সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যশোরের বেনাপোল সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির পাশাপাশি সীমান্ত শহরে পুলিশের টহলও জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোরবানির পর যত দিন পর্যন্ত চামড়া পাচারের আশঙ্কা থাকবে, তত দিন এই বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
অভিযোগ উঠেছে, সরকার চলতি বছর গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা বাড়ালেও বাস্তবে সেই দাম পাচ্ছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ী ও কোরবানিদাতারা। অনেক ক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় প্রতিটি গরুর চামড়ায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কম পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন প্রান্তিক ও মৌসুমি বিক্রেতারা। অন্যদিকে ছাগলের চামড়া কিনতেও আগ্রহ কম ব্যবসায়ীদের।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে পবিত্র ঈদুল আজহার দিন বেনাপোল বন্দরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রান্তিক ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে এলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক বিক্রেতা বলছেন, দেশের বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কেউ কেউ বেশি দামের আশায় পাচারকারীদের কাছে চামড়া বিক্রি করতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
সীমান্তে বসবাসকারীরা জানান, পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে গরুর চামড়ার দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় প্রতিবছর কোরবানির সময় সীমান্তপথে চামড়া পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে এ বছর যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচার না হয়, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।
বেনাপোল পোর্ট থানার উপপরিদর্শক তাপস কুমার আঢ্য বলেন, চামড়া পাচার প্রতিরোধে বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ কাজ করছে। সীমান্ত শহরে টহল জোরদার করা হয়েছে।