হোম > সারা দেশ > যশোর

বেনাপোল বন্দরের শেড থেকে ৬ কোটি টাকার পণ্য আত্মসাতের ঘটনায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি  

ফাইল ছবি

বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের জব্দ করা ভারতীয় পণ্য আত্মসাতের অভিযোগে ১৮ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেছে কাস্টমস। আজ বুধবার সন্ধ্যায় বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আমির মাহামুদ আরেফিন মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে আসামিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, যশোরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘সাফা ইমপেক্স’ গত ১২ মার্চ ভারত থেকে একটি পণ্যের চালান আমদানি করে। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে চালানটি গ্রহণ করে বেনাপোলের মেসার্স হুদা এন্টারপ্রাইজ। পরে চালানটি বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে রাখা হয়। আমদানি নথিতে পণ্য হিসেবে বেকিং পাউডারের ঘোষণা দেওয়া হলেও কাস্টমসের কায়িক পরীক্ষায় সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। পরীক্ষাকালে ১০৮ কার্টনে ঘোষণাবহির্ভূত প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় দামি শাড়ি, থ্রি-পিস, বেবিওয়্যার, ফেসওয়াশ, ক্রিম, লোশনসহ বিভিন্ন প্রসাধনী পাওয়া যায়। এসব পণ্য মিথ্যা ঘোষণায় আমদানির মাধ্যমে ২ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার ৫১৫ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরে ১৪ মার্চ এসব ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস ও প্রসাধনী জব্দ করে বন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে রাখা হয়। ২ জুন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, সেখান থেকে দামি পণ্য সরিয়ে নিম্নমানের দেশীয় পণ্য রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় বন্দরের অভ্যন্তরীণ যোগসাজশের সন্দেহ করছে কাস্টমস। ইতিমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রায় ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকার রাজস্ব পরিশোধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং শেড ইনচার্জকে প্রত্যাহার করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কাস্টমসের দাবি, পুরো ঘটনায় বন্দর কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে।

অভিযুক্ত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স হুদা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আনিসুর রহমান দাবি করেন, জব্দ হওয়া চালানটি খালাসের জন্য তাদের প্রতিষ্ঠান কোনো বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেনি। রাজু নামের এক ব্যক্তি তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে এসব অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় কাস্টমসকে জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, আমদানি করা ভারতীয় দামি পণ্যের পরিবর্তে যে দেশীয় পণ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো বাংলাদেশি বসুন্ধরা ও মেঘনা শিল্পগ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানির নাম মুদ্রিত কার্টনে রাখা ছিল। এ ছাড়া দেশীয় সংবাদপত্রে মোড়ানো এবং বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের স্টিকারযুক্ত পিপি বস্তাও পাওয়া গেছে। এসব আলামত প্রমাণ করে পণ্যগুলো দেশের ভেতর থেকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, বন্দর থেকে পণ্য গায়েবের ঘটনায় কাস্টমস কর্মকর্তা বাদী হয়ে ১৮ জনের নামে মামলা করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুশ ইন ঠেকাতে বেনাপোল সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন

নাতনিকে উত্ত্যক্তের অভিযোগ: প্রতিবাদ করায় নানাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৫

ভালোবেসে বিয়ে, তবু ছয় মাসের মধ্যে ‘স্বামীর হাতে’ মরতে হলো শাম্মীকে

শার্শায় নাশকতা মামলায় বিডিনিউজের প্রতিনিধি আসাদ গ্রেপ্তার, থানায় সাংবাদিকদের অবস্থান

যশোরে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

যশোরে যুবলীগের ব্যানারে মিছিল, আটক ১০

বেনাপোলে সোহাগ হত্যাচেষ্টা মামলায় দুই দিনেও গ্রেপ্তার নেই, উদ্ধার হয়নি আগ্নেয়াস্ত্র

বেনাপোলে ব্যবসায়িক বিরোধে যুবককে লক্ষ্য করে ৩টি গুলি, আতঙ্কে স্থানীয়রা

মাইকিং করে আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিলেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা

বাঘারপাড়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, অভিযান চালিয়ে ৬ কর্মী আটক