হোম > সারা দেশ > জামালপুর

‘চাকরিটা পেলে ভ্যানচালক বাবার সংসারের হাল ধরব’

জামালপুর প্রতিনিধি 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অনশনে নিয়োগপ্রত্যাশীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

‘আমার বাবা একজন ভ্যানচালক। চর এলাকায় ভ্যান চালিয়ে কষ্টে ছয়জনের সংসার চালান। চার ভাই-বোনের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে তাঁকে হিমশিম খেতে হয়। অনেক কষ্ট করে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেছি। এখন চাকরিটা পেয়েও যদি নিয়োগপত্র না পাই, তাহলে আমরা কোথায় যাব।’

কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন জামালপুর সদর উপজেলার আমির হোসেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও এখনো নিয়োগপত্র পাননি তিনি। শুধু আমির নন, একই অবস্থায় আছেন জামালপুরের আরও ৫০ জন নিয়োগপ্রত্যাশী।

নিয়োগপত্রের দাবিতে আজ বুধবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে অনশনে বসেছেন তাঁরা। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত এসব প্রার্থী।

জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে জামালপুর জেলায় ১৩৬ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। তাঁদের মধ্যে প্রথম ধাপে ৮৪ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ধাপে গত সোমবার আরও একজনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। ফলে একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও ৫১ জন এখনো নিয়োগপত্র পাননি।

অনশনে থাকা নিয়োগপ্রত্যাশী শামীমা ইয়াসমিন সুমি বলেন, ‘এই চাকরি না হলে আমার চাকরিতে আবেদনের বয়স শেষ হয়ে যাবে। তখন আমি কী করব? আগামীকাল ১ অক্টোবর যারা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাঁরা চাকরিতে যোগ দেবেন। তাঁদের সঙ্গে আমরাও বিদ্যালয়ে যোগ দিতে চাই।’

চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় এসব প্রার্থীর মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সুপারিশপ্রাপ্ত অন্যদের সঙ্গে তাঁদেরও নিয়োগপত্র দিয়ে ১ অক্টোবর বিদ্যালয়ে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হোক।

এ বিষয়ে জেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আহসান বলেন, ‘ঢাকায় মিটিংয়ে রয়েছি। বিষয়টি সমাধান হলে একসঙ্গে সমাধান হবে।’