জামালপুরের ইসলামপুরে মঞ্জুয়ারা খাতুন (২৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে স্বজন ও আসামিপক্ষ পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। মামলায় উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মলিনকে আসামি করার প্রতিবাদে আজ শুক্রবার চরপুটিমারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর চর এলাকায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন তাঁর সমর্থকেরা।
সকাল ১১টার দিকে ৪ নম্বর চর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় কয়েক শ নারী-পুরুষ অংশ নেন। বক্তারা দাবি করেন, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে মঞ্জুয়ারার মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উপস্থাপন করে মলিনকে মামলায় ১০ নম্বর আসামি করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, ঘটনার দিন মলিন জেলা বিএনপির কর্মসূচিতে ছিলেন। মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তাঁরা।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের হরিণধরা এলাকায় মঞ্জুয়ারার মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবিতে স্বজন ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন।
পরিবারের অভিযোগ, মঞ্জুয়ারাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা বলেন, মলিন ফেসবুক লাইভে মঞ্জুয়ারার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করেছেন এবং তাঁর লোকজনসহ অন্য আসামিরা মামলা প্রত্যাহারে হুমকি দিচ্ছেন। এতে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৫ বছর আগে শেরপুর সদর উপজেলার আহাম্মদ আলী মোল্লাহর মেয়ে মঞ্জুয়ারার সঙ্গে ইসলামপুরের চরপুটিমারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর চর এলাকার সুজন মিয়ার বিয়ে হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মঞ্জুয়ারাকে নির্যাতন করা হচ্ছিল। গত শনিবার সকালে স্বামীর বাড়িতে মারধরের একপর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে লাশ গোপন করার চেষ্টা করা হলেও স্থানীয়দের বাধায় তা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে ওই দিন সন্ধ্যায় পুলিশ বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার পর মঞ্জুয়ারার স্বামী সুজন মিয়াসহ শ্বশুরবাড়ির কয়েকজন সদস্য আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
গত সোমবার মঞ্জুয়ারার মা রিনা খাতুন ইসলামপুর সিআর আমলি আদালতে মামলা করার আবেদন করেন। পরে আদালত ইসলামপুর থানার ওসিকে অস্বাভাবিক মৃত্যুর (ইউডি) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। মামলায় মঞ্জুয়ারার স্বামী সুজন মিয়া, দেবর লোকমান ও লুৎফর, শাশুড়ি ছুরভানু এবং যুবদল নেতা হামিদুর রহমান মলিনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার পর থেকেই মলিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। তাঁর দাবি, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধারে পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। আগামী চরপুটিমারী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ায় তাঁর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁকে হয়রানিমূলক মামলায় আসামি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইসলামপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, মঞ্জুয়ারা খাতুনের মৃত্যু নিয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি হচ্ছে। লাশের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন হবে।