হোম > সারা দেশ > জামালপুর

ইসলামপুরে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন আত্মগোপনে

ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি: 

জামালপুরের ইসলামপুর থানা। ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরের ইসলামপুরে মোছা. মঞ্জুরা (২৮) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের চার নম্বর চর এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

মৃত মঞ্জুরা ওই এলাকার সুজন মিয়ার স্ত্রী। পারিবারিক সদস্যদের অভিযোগ, মঞ্জুরাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পরে হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে লাশ নদীর পানিতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ঘটনার পর মঞ্জুরার স্বামী সুজন মিয়াসহ তাঁর কয়েকজন ভাই আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৭ বছর আগে পাশের শেরপুর সদর উপজেলার সাত নম্বর চর এলাকার বাসিন্দা আহমত মোল্লাহর মেয়ে মঞ্জুরার সঙ্গে সুজন মিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা দেড়টার দিকে মঞ্জুরার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে ডিগ্রিরচর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ ও উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সুরুজ আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তবে প্রথমে মঞ্জুরার শ্বশুরবাড়ির লোকজন পুলিশকে লাশ দিতে চাননি বলে জানা গেছে। পরে ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

মঞ্জুরার বোন আঞ্জুরা অভিযোগ করেন, পারিবারিক শত্রুতার জেরে তাঁর বোনকে দেবর লোকমান ও লুৎফরসহ কয়েকজন প্রথমে হত্যা করেন। পরে হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে লাশটি বসতবাড়িসংলগ্ন নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নদীর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে লাশ রশিতে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করা হয়।

মঞ্জুরার মা রিনা বেগম বলেন, প্রায় ১৭ বছর আগে সুজন মিয়ার সঙ্গে তাঁর মেয়ের বিয়ে হয়। মঞ্জুরা তিন সন্তানের মা। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন এবং বাবার বাড়িতে বেড়াতে যেতে দেওয়া হতো না। তাঁর অভিযোগ, মঞ্জুরাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

ইসলামপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, মঞ্জুরা নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনার পর থেকে তাঁর স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন আত্মগোপনে রয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।