হোম > সারা দেশ > জামালপুর

যুবলীগের ব্যানারে মুখোশধারীদের মশাল মিছিল, ওসির দাবি—‘এআই ভিডিও’

ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি 

ফাইল ছবি

জামালপুরের বকশীগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নেতা-কর্মীদের মুখোশ পরে মশাল মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাটি সত্য নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভিডিওটি তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ৪১ সেকেন্ডের ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি হাতে জ্বলন্ত মশাল নিয়ে মিছিল করছেন। তাঁদের সবার মুখ ঢাকা ছিল। মিছিল থেকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের রায় মানি না, মানি না’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ ও ‘জনগণের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’—এ ধরনের স্লোগান দিতে শোনা যায়।

ভিডিওতে থাকা ডিজিটাল ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘অসাংবিধানিক ও অবৈধ ক্যাঙ্গারু কোর্টের প্রহসনের বিচার এবং পূর্বনির্ধারিত রায়ের বিরুদ্ধে মশাল মিছিল।’ আয়োজক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘বকশীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর আওয়ামী যুবলীগ’-এর নাম।

ব্যানারের এক পাশে শেখ হাসিনা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি রয়েছে। অন্য পাশে বকশীগঞ্জ পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর এবং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক সংসদ সদস্য নুর মোহাম্মদসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার ছবি দেখা যায়।

তবে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় বা মিছিলের নেতৃত্বে কারা ছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ব্যানারে নিজের ছবি ব্যবহারের বিষয়ে নজরুল ইসলাম সওদাগর বলেন, ‘আগামী পৌরসভা নির্বাচনে যাতে আমি অংশ নিতে না পারি, সে জন্য আমার ছবি দিয়ে কারা যেন যুবলীগের ব্যানারে মশাল মিছিল করেছে। আমাকে যুবলীগ নেতা বলা হয়। কিন্তু যুবলীগের কমিটিতে আমার নাম কেউ দেখাতে পারবে না।’

উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর বলেন, ‘মুখোশ থাকায় মিছিলকারীদের কাউকে চেনা যাচ্ছে না। আমাদের ধারণা, বিএনপিরই একটি পক্ষ মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে হেয় করতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে থানা-পুলিশকে বলেছি।’

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের ব্যানারে মশাল মিছিলের ভিডিও সম্পর্কে জেনেছি। তবে ঘটনা সঠিক নয়। এআই দিয়ে কে বা কারা কোথা থেকে এটি তৈরি করে ফেসবুকে পোস্ট করেছে।’