হোম > সারা দেশ > জামালপুর

বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের ছাদের রড বাঁধায় অনিয়ম, পিআইওর নির্দেশে খুলে আবার বাঁধা হলো

ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি  

জামালপুরের ইসলামপুরের পশ্চিম নন্দনেরপাড়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে নির্মাণাধীন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র। আজ রোববার দুপুরে তোলা ছবি। আজকের পত্রিকা

জামালপুরের ইসলামপুরে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কার্যাদেশ বহির্ভূতভাবে ঠিকাদারের লোকজন ছাদ ঢালাই করতে রড বেঁধে ছিল। এতে এলাকাবাসীর বাধার মুখে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হন ঠিকাদারের লোকজন। পরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) নির্দেশে ছাদের সব রড খুলে পুনরায় কার্যাদেশ অনুযায়ী রড বাঁধা হয়।

আজ রোববার দুপুরের দিকে সামাজিক নিরাপত্তা অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষা ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সৈয়দ এহসানুর রহমান, এসএএস সুপারিনটেনডেন্ট মো. লুৎফর রহমান এবং অডিটর মো. গোলাম রাব্বানী নির্মাণাধীন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বন্যাপ্রবণ এবং নদীভাঙন এলাকায় বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ (৩য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় উপজেলার চিনাডুলী ইউনিয়নের পশ্চিম নন্দনেরপাড়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৮৯ লাখ ৯৮ হাজার ৫৯৯ টাকা। এ ছাড়া চুক্তিমূল্য ধরা হয় ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৫৩ হাজার ৭৩৯ টাকা।

গত ৯ মার্চ বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিশোরগঞ্জের মেসার্স মুসফিকুর রহমান (কাঞ্চন) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। আগামী ২০২৭ সালের ৩০ মে কাজ শেষ হওয়ার প্রত্যাশিত তারিখ নির্ধারণ করা হয়। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে বন্যা মৌসুমে ৪০০ ব্যক্তি এবং ১০০টি গবাদিপশু বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে পারবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন-চার মাস আগে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু করে পার্শ্ববর্তী দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দুর্গা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্মাণকাজ শুরু থেকে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে ঠিকাদারের লোকজনের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় বাসিন্দা জামাল বলেন, ‘ঠিকাদারের লোকজন দুর্নীতির আশ্রয়ে রড ফাঁক ফাঁক রেখে বেঁধে ছিল। এতে আমাদের বাধার মুখে ঠিকাদারের লোকজন কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এর আগে পাইলে ৮০ ফুট লোহার খাঁচা বসানোর স্থলে মাত্র ৫৪ ফুট খাঁচা বসানোর চেষ্টা করে। আমরা প্রতিবাদ করায় সেটা করতে পারেনি।’

পশ্চিম নন্দনেরপাড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. আব্দুল মালেক বলেন, মাঝেমধ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে কাজ করার চেষ্টা চালায় ঠিকাদারের লোকজন। কিন্তু এলাকাবাসী এতে বাধা দেওয়া পর ভালোভাবে কাজ করে তারা।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুর্গা এন্টারপ্রাইজের পক্ষে কাজ দেখভালের দায়িত্ব থাকা রহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে বলেন, ‘কাজটি সাব কন্ট্রাক্টে নেওয়া হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন। কার্যাদেশ মোতাবেক কাজ করে যাচ্ছি।’

পিআইও মো. রকিবুল হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, আজ রোববার সামাজিক নিরাপত্তা অডিট অধিদপ্তরের একটি প্রতিনিধি আশ্রয়কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন। গত বৃহস্পতিবারের দিন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রটির দ্বিতীয় তলা ছাদের ঢালাই কাজ করার কথা ছিল। এই উপলক্ষে আগের দিন গত বুধবার সেখানে গিয়ে দেখতে পাই, ছাদের রড কার্যাদেশ অনুযায়ী বাঁধা হয়নি। যেখানে ছয় ইঞ্চি দূরত্বের পরপর এক করে রড বাঁধার কথা, সেখানে সাত ইঞ্চি পরপর রড বেঁধে রেখেছিল ঠিকাদারের লোকজন। এটা দেখার পর আমি ঢালাই কাজ বন্ধ করে দিই। পরে ছাদের সব রড খুলে পুনরায় কার্যাদেশ অনুযায়ী রড বেঁধে নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল সোমবার ছাদের ঢালাই কাজ করার কথা রয়েছে।

পিআইও আরও বলেন, ‘ঠিকাদারের লোকজন ভুল করে হোক, কিংবা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে হোক, নির্মাণকাজ করতে চাইলেও সেটা আমরা করতে দিই না। কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ আদায় করে নেওয়াই আমাদের দায়িত্ব।’

বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণকাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘ঠিকাদারের লোকজন মাঝেমধ্যে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করে। কিন্তু শতভাগ নিয়মমাফিক কাজ আদায় করে নিতে আমরা বদ্ধপরিকর।’