হোম > সারা দেশ > জামালপুর

ইসলামপুরে মঞ্জুয়ারা হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি  

চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের হরিণধরা এলাকায় মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরের ইসলামপুরে গৃহবধূ মঞ্জুয়ারা খাতুন (২৮) হত্যা মামলার আসামিদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের হরিণধরা এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

হরিণধরা এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মানববন্ধনে অংশ নেন স্থানীয়রা। এ সময় তাঁরা মঞ্জুয়ারা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এর আগে গতকাল বুধবার বিকেলে মঞ্জুয়ারা হত্যা মামলার আসামি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মলিন ফেসবুক লাইভে মঞ্জুয়ারার মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ বলে দাবি করেন। পরে রাত ১০টার দিকে পৌর শহরের হাসপাতাল এলাকার একটি বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে মামলা প্রত্যাহারে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন মঞ্জুয়ারার পরিবারের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে মঞ্জুয়ারার মা রিনা খাতুন, বাবা আহাম্মদ আলী মোল্লা, বোন আঞ্জুয়ারা খাতুন ও ছেলে রনি বক্তব্য দেন। তাঁরা দাবি করেন, মঞ্জুয়ারাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জামালপুর আদালতে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। হামিদুর রহমান মলিনসহ আসামিদের পক্ষ থেকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন। এতে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ বছর আগে শেরপুর সদর উপজেলার সাত নম্বর চর এলাকার আহাম্মদ আলী মোল্লার মেয়ে মঞ্জুয়ারার সঙ্গে ইসলামপুরের চরপুটিমারী ইউনিয়নের চার নম্বর চর এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সুজন মিয়ার বিয়ে হয়। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মঞ্জুয়ারাকে মারধর ও নির্যাতন করা হচ্ছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

গত শনিবার সকাল ১০টার দিকে স্বামীর বাড়িতে মঞ্জুয়ারাকে আসামিরা মারধর করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার পর মঞ্জুয়ারার স্বামী সুজন মিয়াসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন আত্মগোপনে চলে যান।

গত সোমবার দুপুরে মঞ্জুয়ারার মা রিনা খাতুন ইসলামপুর সিআর আমলি আদালতে মামলা করার আবেদন করেন। পরে আদালত ইসলামপুর থানার ওসিকে ইউডি (অস্বাভাবিক মৃত্যু) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। মামলায় সুজন মিয়া, তাঁর ভাই লোকমান ও লুৎফর, মা ছুরভানু এবং যুবদল নেতা হামিদুর রহমান মলিনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে হামিদুর রহমান মলিন জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধারে পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন। মঞ্জুয়ারার আত্মহত্যার বিষয়ে তিনি ফেসবুক লাইভে কথা বলেছেন। মামলা প্রত্যাহারের হুমকির অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, আগামী চরপুটিমারী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করায় তাঁর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁকে আসামি করা হয়েছে।

থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, মামলা প্রত্যাহারের হুমকির বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। মঞ্জুয়ারার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।