হবিগঞ্জ: ‘ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়’ এই বাক্যটিকে বাস্তবে প্রমাণ করেছেন হবিগঞ্জের এক মহীয়সী নারী। তিল তিল করে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। মসজিদটি পরিচিত ‘বেঙ্গির মায়ের মসজিদ’ নামে। আজ থেকে ১১৯ বছর আগে তিনি ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মসজিদটি নির্মাণ করেন।
শতবর্ষ পরে এসেও বেঙ্গির মায়ের মসজিদ নির্মাণের কাহিনী এলাকাবাসীর মুখে মুখে। মসজিদটির আরেক নাম ‘এক আন্ডার মসজিদ’। এলাকাবাসীর থেকে জানা গেছে, একটি মুরগির ডিম মসজিদের নামে মানত করেছিলেন সেই নারী। ওই মুরগির ডিম ফুটে একটি বাচ্চার জন্ম হয়। পরে ওই বাচ্চা বড় হলে তা থেকে আরও ৭টি ডিম হয়। এরপর ওই ৭ ডিম থেকে ৭টি বাচ্চার জন্ম হয়। এভাবে একপর্যায়ে মুরগির খামার গড়ে তোলেন তিনি। ওই খামারের মুরগি বিক্রি করে বেঙ্গির মা টাকা জমাতে থাকেন।
প্রজাতপুর ও লালপুর গ্রামবাসী ২০০৯ সালে মসজিদটির বর্ধিত অংশ সংস্কার করেছেন। কিন্তু বেঙ্গির মার মূল মসজিদটি এখনও বিদ্যমান রয়েছে। চলতি বছরে মসজিদটি নতুন করে রঙ করা হয়েছে।
বেঙ্গির মার এক নিকটাত্মীয় প্রজাতপুর গ্রামের রাকিল হোসেন বলেন, ‘সরফ উল্লার স্ত্রী বেঙ্গির মা এই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা। আমি আমার বাবার কাছ থেকে শুনেছি বেঙ্গির মা একটি আন্ডা থেকেই এই মসজিদ নির্মাণ করেন।’
বর্তমানে মসজিদটির পরিচালনা কমিটিতে রয়েছেন বেঙ্গির মার বংশধর রূপ উদ্দিন, লন্ডন প্রবাসী আবদুল হারিছ, ব্যবসায়ী হেলিম উদ্দিন, রাকিল হোসেন ও শামীনুর মিয়া।