‘মানুষ তো মারা যাওয়ার পরে একটু শান্তিতে থাকার কথা, কিন্তু তা-ও পারে না। একটু বৃষ্টি হলেই সড়ক, ঘরবাড়ি, রান্নাঘর ও কবরস্থান তলিয়ে যায়। সরকার আসে সরকার যায়, চেয়ারম্যান-মেম্বার আসে-যায়, জনগণের কাছে সবাই ওয়াদা দেয়, কিন্তু কাজের সময় কেউ কাজ করে না।’ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতীর মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম শেখ।
ইব্রাহিম শেখ আরও বলেন, ‘বৃষ্টির সময় সড়কের পানি বালতিতে ভরে অপসারণ করতে হয়। না হলে সড়ক নাকি পুকুর, বোঝা যায় না। গত বছরও এই অবস্থা হলে ইউএনও স্যার এসে বলেছিলেন ড্রেন করে দেবেন, কিন্তু তিনি বদলি হয়ে গেছেন। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হয়নি।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যপাড়া গ্রামে পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসবাস। এ ছাড়া গ্রামটিতে ছয়টি কবরস্থান, চারটি মসজিদ, দুটি মাদ্রাসা ও চারটি গণশিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। প্রায় ১০ বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে তলিয়ে যায় ছয়টি কবরস্থানসহ দুই শতাধিক পরিবারের বসতভিটা। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি চেয়ারম্যান-মেম্বরদের মৌখিক ও লিখিতভাবে জানালেও তাঁদের দুর্ভোগের অবসান হয়নি। এতে প্রতিবছর ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হতে হয় মুসল্লি, শিক্ষার্থীসহ সবাইকে।
ওই গ্রামের বাসিন্দা মুক্তার আলী বলেন, ‘বৃষ্টির সময় একজন মানুষ মারা গেলে কবর খোঁড়ার পরিস্থিতিও থাকে না। কয়েক দিন আগে সিরাজ নামের এক ব্যক্তি মারা গেলে তাঁকে কবরস্থ করতেও ব্যাপক সমস্যা হয়েছে। এখনো তাঁর কবরের মধ্যে পানি থইথই করছে। আমরা এ দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান চাই।’
স্থানীয় মসজিদের ইমাম আব্দুর রহমান শেখ বলেন, কয়েক দিন বৃষ্টি হলেই মসজিদের সামনের সড়ক তলিয়ে যায়। এ ছাড়া বাড়িঘর, কবরস্থান সবকিছুই তলিয়ে যায়। মসজিদের সামনের সড়কে নাপাক ও ময়লাযুক্ত পানি থাকায় মুসল্লিরা মসজিদে নামাজ পড়তে আসতে পারেন না।
একই গ্রামের সিরাজুল ফকির, নাসির শিকদার, সৈয়দ আতিয়ার রহমান, মজিবুর শেখ জানান, তাঁদের গ্রামে বসবাসরত অধিকাংশ মানুষই চুলায় রান্না করেন। বেশির ভাগেরই গ্যাস ক্রয়ের সামর্থ্য নেই। তাই অনেকে এক বেলা কোনোমতে খেয়েও দিন কাটাচ্ছেন, আবার কেউ তিন বেলাই হোটেলে গিয়ে খেয়ে আসছেন। কারণ, সবার বাড়ির উঠান ও রান্নাঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই।
পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘ইউএনও স্যার পানি নিষ্কাশনের নির্দেশ দিয়েছেন। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু হবে।’
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, ‘টুঙ্গিপাড়া যেহেতু নিচু এলাকা, তাই বৃষ্টি হলেই অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনে জরুরি ভিত্তিতে পানি অপসারণের জন্য প্যানেল চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছি। জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো আমরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছি। সমস্যার কথা শুনলেই দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’