গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের সাত ইউনিয়নের সদস্যদের নিয়ে গঠিত শুভেচ্ছা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের সভাপতি আবুল হাসেম প্রায় তিন কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সমিতির কার্যালয় তালাবদ্ধ থাকায় জমা টাকা ফেরত না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন প্রায় এক হাজার সদস্য। এ ঘটনায় থানায় ও আদালতে দুটি মামলা হয়েছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর আবুল হাসেম সমিতির কার্যালয়ে তালা দিয়ে চলে যাওয়ার পর থেকে সেটি বন্ধ রয়েছে। জমা টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় সদস্যরা প্রতিদিন কার্যালয়ে এসে অপেক্ষা করছেন।
গতকাল সোমবার বিকেলে কাপাসিয়ার রাওনাট বাজারে সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, তিনতলা ভবনের নিচতলার দোকানপাট এবং ওপরের তলায় থাকা সমিতির কার্যালয়সহ সবকিছু তালাবদ্ধ। ভবনটির কোথাও সমিতির কার্যক্রম চলার কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি।
সমবায় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে ১০৯৮ নম্বর নিবন্ধনের মাধ্যমে সমিতিটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরে আশপাশের সাত ইউনিয়নের বহু মানুষকে সদস্য করা হয়।
১৫ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার কথা বলে সদস্যদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সমিতির মূলধন বাড়ানো হয় বলে জানান সদস্যরা। গত বছর সমিতির সদস্যসংখ্যা ছিল ৪৯৬ জন। বর্তমানে এ সংখ্যা প্রায় এক হাজার। সদস্যদের দাবি, সমিতির বর্তমান মূলধন প্রায় ১০ কোটি টাকা।
সমিতির বর্তমান সভাপতি আবুল হাসেমের বয়স ৪৬ বছর। তিনি কাপাসিয়া থানার দড়িমেরুন গ্রামের মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে।
রাওনাট বাজার সমিতির সভাপতি সফিকুল আলম বলেন, ‘আবুল হাসেম পালিয়ে গেছেন। বর্তমানে সমিতির সদস্যরা টাকার জন্য পাগলের মতো ঘুরছেন। বহু নারী-পুরুষ বাজারে এসে সারা দিন সমিতির সামনে অপেক্ষা করছেন জীবনের শেষ সম্বলটুকু উদ্ধারের জন্য।’
স্থানীয় বরুন গ্রামের সদস্য সালমা বেগম ও সুবর্ণা আক্তার জানান, তাঁরা দুজন মিলে সমিতিতে এক লাখ আট হাজার টাকা রেখেছিলেন। সভাপতি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এখন তাঁরা মহাবিপদে পড়েছেন।
চাপাত মাঝিবাড়ি গ্রামের সদস্য নিখিল দাস একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, সমিতিতে তাঁর দুই লাখ ১০ হাজার টাকা জমা ছিল।
কাপাসিয়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মাহফুজুল আমিন বলেন, ‘এই সমিতির সভাপতি আবুল হাসেম। গ্রাহকদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি তিন কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি কীভাবে অফিস খোলা যায়।’
মাহফুজুল আমিন আরও বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যরা থানায় ও গাজীপুর আদালতে দুটি মামলা করেছেন। আমরাও তদন্ত করছি।’ গত বছর সমিতির সদস্যসংখ্যা ৪৯৬ জন ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, এবার সদস্যসংখ্যা কত, তা জানেন না। তবে সমিতিতে ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করতেন।
গাজীপুর জেলা সমবায় কর্মকর্তা আরিফা সুলতানা শিপা বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ওই সমিতির কতজন সদস্য, মূলধন কত, জরিপ বা নিরীক্ষা হয় কি না, সেটাও জানা নেই।’
আবুল হাসেমের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।