হোম > সারা দেশ > গাজীপুর

গাজীপুর মহানগরীতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, নির্বিকার সিটি করপোরেশন

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি  

হাসপাতালে শয্যা খালি না থাকায় মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডেঙ্গু রোগীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুর মহানগরীতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১১৮ জন। ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মহানগরীর কোনাবাড়ী ও কাশিমপুরকে ডেঙ্গু রোগীর হটস্পট মনে করছেন।

এ অবস্থায় মশকনিধনে সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নগরবাসীর অভিযোগ, মশকনিধনে সিটি করপোরেশনের প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কোনাবাড়ীর পাশের কড্ডা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ময়লা জমে আছে। বাইমাইল এলাকাতেও নতুন করে ময়লা ফেলা হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় এলাকায় ডেঙ্গু শনাক্তের হার বাড়ছে বলে তাঁদের অভিযোগ।

কোনাবাড়ীর আমবাগ এলাকার বাসিন্দা সুলতান আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী গত এক সপ্তাহ ধরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জরুন এলাকার নুরুল হক, তাঁর স্ত্রী ও ছেলে—তিনজনই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।

গত ২৬ আগস্ট ডেঙ্গুতে কলেজশিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার মিতুর মৃত্যু হয়। এর দুই দিন আগে, ২৪ আগস্ট জরুন দক্ষিণ কাশিমপুরে ডেঙ্গুতে সাত বছর বয়সী শিশু সাদিয়ার মৃত্যু হয়।

আজ বুধবার দুপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু কর্নারে রোগীর চাপ বেশি। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় রোগীদের মেঝে, বারান্দা ও সিঁড়িতে বসে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। পরীক্ষার জন্য দলবদ্ধ হয়ে মানুষ আসছেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

ডেঙ্গু ওয়ার্ডে দায়িত্বে থাকা একজন নার্স বলেন, ‘বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। বেশির ভাগ রোগী আসছে কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর থেকে। হাসপাতালে রোগীর তুলনায় জনবল কম থাকায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে।’

ডেঙ্গু আক্রান্ত এক রোগীর স্বজন আল আমিন বলেন, ‘হাসপাতালে একটি শয্যাও খালি নেই। বাধ্য হয়ে মেঝেতে শুইয়ে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। আক্রান্তদের অনেকেই শয্যা না পেয়ে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা, এমনকি সিঁড়িতেও চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।’

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, অনেক শ্রমিক একসঙ্গে থাকেন। তাঁদের স্বাস্থ্যসচেতনতার অভাব রয়েছে। ওই দিকে একটু গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’ তিনি জানান, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১১৮ জন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

তবে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘গাজীপুরে ডেঙ্গু মারাত্মক আকার ধারণ করছে বা কেউ মারা গেছে, এমন খবর নেই। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে, যাতে আমাদের নগরীর কোনো মানুষ মশার কামড়ে আক্রান্ত না হয়। মহামারি যাতে ছড়িয়ে না পড়ে।’