হোম > সারা দেশ > গাজীপুর

টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের জন্য জন্মনিবন্ধন সনদ দিলেন দেবিদ্বার ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিব

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

দেবিদ্বার ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন রুহুল ও ইউপি সচিব মো. নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ৬ নম্বর ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর তিন সদস্যকে বাংলাদেশের নাগরিকত্বের জন্য জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন রুহুল ও ইউপি সচিব মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা শফিউল আলম ৭ জুলাই রেজিস্ট্রার জেনারেল (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন) কার্যালয়ে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনটি ২১ জুলাই প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগের অনুলিপি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন রুহুল ও ইউপি সচিব মো. নজরুল ইসলাম যোগসাজশ করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে তিনজনকে জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি নিবন্ধনের জন্য ৩ লাখ টাকা করে মোট ৯ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা তিনজন হলেন সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদ, মুবিনা খাতুন ও হাফিছা।

অভিযোগকারী বলেছেন, সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদ ও মুবিনা খাতুনের মায়ের নাম একই হলেও পিতার নাম ভিন্ন। একই দিনে তাদের জন্মনিবন্ধন রেজিস্ট্রেশন হওয়ায় তথ্যের এই অসঙ্গতি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, এই তিনজনের কেউই ফতেহাবাদ ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা নন এবং তাঁদের অবৈধভাবে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে জন্মনিবন্ধন দেওয়া হয়েছে।

তিন রোহিঙ্গার জন্ম নিবন্ধন সনদ। ছবি: সংগৃহীত

তিনটি জন্মনিবন্ধনের তথ্য সরকারের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন যাচাইকরণ ওয়েবসাইটে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, মুবিনা খাতুন ও সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদের জন্মস্থান কক্সবাজার। হাফিছার জন্মস্থান কুমিল্লা প্রদর্শিত হচ্ছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের জন্মনিবন্ধনের সরকারি সার্ভারের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড শুধু চেয়ারম্যান ও সচিবের নিয়ন্ত্রণে থাকে। অভিযোগকারীর দাবি, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে এ ধরনের আরও বহু ভুয়া জন্মনিবন্ধনের তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

তবে ৬ নম্বর ফতেহাবাদ ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. নুরুল ইসলাম নুরু মেম্বার বলেন, সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদ ও মুবিনা খাতুন তার ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা। তারা এখনো ওই এলাকাতেই অবস্থান করছেন।

অভিযুক্ত ইউপি সচিব মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার পর তাঁকে দাউদকান্দি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নে বদলি করা হয়েছে এবং সম্প্রতি মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নে বদলির আদেশ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন রুহুল বলেন, তিনি ২০২৪ সালের আগস্টে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিলেও জন্মনিবন্ধনের ইউজার এক্সেস পান ১৬ জানুয়ারি ২০২৫। তাঁর দাবি, অভিযোগে উল্লেখিত জন্মসনদগুলো তাঁর সময়ে তৈরি হয়নি। অভিযোগ দায়েরের আগে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। কারা, কীভাবে এই জন্মনিবন্ধন করেছে, তাও তিনি বলতে পারেন না।

তবে জন্মসনদ ইস্যুর তারিখ অনুযায়ী ঘটনাগুলো সালাহ উদ্দিন রুহুলের দায়িত্বকালেই হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী শফিউল আলম। তিনি এ ঘটনাকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উল্লেখ করে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সব অবৈধ জন্মনিবন্ধন বাতিল এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

গাজীপুরের শ্রীপুর: গর্ত-পানিতে ভরা পাকা সড়ক, দুর্ভোগে যাত্রীরা

টঙ্গীর হাজীর মাজার বস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান, ৩০০ কক্ষের বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন

দল বেঁধে হোটেলে ডাকাতির চেষ্টা, একজনকে ফেলে অন্যদের চম্পট

গারদ থেকে পালানো ৩২ মামলার আসামি সম্রাট র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

গাজীপুরে আদালত থেকে পালালেন ৩২ মামলার আসামি ডাকাত সম্রাট

কালীগঞ্জে ‘আইশিন ফুডস’ কারখানায় অভিযান, ৩ লাখ টাকা জরিমানা

কারখানার কাছে স্কুলমাঠ ভাড়া দিলেন প্রধান শিক্ষক, বন্ধ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা

কারাগার থেকে পালানো সেই নারী কয়েদি রাজধানীতে গ্রেপ্তার

বিয়ের অনুষ্ঠানে অ্যালকোহল ভেবে মিথানল পান, প্রাণ গেল দুই যুবকের

নানা আয়োজন আর শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় ভক্তদের হুমায়ূন স্মরণ