হোম > সারা দেশ > গাজীপুর

গাজীপুর সাফারি পার্কে জলহস্তী শাবকের জন্ম, সংখ্যা বেড়ে ৫

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি  

মায়ের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে জলহস্তী শাবক। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুর সাফারি পার্কে একটি জলহস্তী শাবকের জন্ম হয়েছে। নতুন শাবকসহ পার্কে জলহস্তীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচটিতে। শাবকটি সুস্থ রয়েছে এবং মা জলহস্তীর সঙ্গে জলাধারে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ।

আজ সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক মো. তারেক রহমান। তবে শাবকটির জন্মের নির্দিষ্ট তারিখ জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী পরিদর্শক রাজু আহমেদ বলেন, জন্মের পর থেকে শাবকটি সুস্থ আছে। মা জলহস্তী শাবকটিকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিচ্ছে। পুষ্টির কথা বিবেচনায় মা জলহস্তীর খাবারের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।

রাজু আহমেদ বলেন, দিনের বেশির ভাগ সময় শাবকটি মায়ের সঙ্গে পানিতে থাকে। শরীর ডুবিয়ে চোখ বাইরে রেখে কচুরিপানার আড়ালে থাকে। মাঝে মাঝে শাবকটি ডাঙায়ও উঠে আসে।

মো. তারেক রহমান জানান, দেড় সপ্তাহ আগে শাবকসহ মা জলহস্তীকে বেষ্টনীর ভেতর ডাঙায় দেখা যায়। পার্কের কর্মীরা কাছে গেলে মা ও শাবক গভীর পানিতে লুকিয়ে পড়ে। আবার কখনো জলাধারের কোনো স্থানে সামান্য ভেসে উঠে দ্রুত পানির নিচে চলে যায়।

মো. তারেক রহমান আরও জানান, এখনো শাবকটির লিঙ্গ শনাক্ত করা যায়নি। লিঙ্গ শনাক্তে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে। শাবকটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। মা জলহস্তীর সঙ্গে কচুরিপানার ফাঁক দিয়ে উঁকিঝুঁকি দেয় শাবকটি। মায়ের পেছনে পেছনে পুকুরের পানি থেকে পাড়ে ওঠে এবং কিছুক্ষণ পর আবার গভীর পানিতে নেমে যায়।

জলহস্তীর প্রজননপ্রক্রিয়া পানিতেই সম্পন্ন হয়। স্ত্রী জলহস্তী সাধারণত পাঁচ থেকে ছয় বছর ও পুরুষ জলহস্তী সাত থেকে আট বছর বয়সে প্রজননক্ষম হয়। স্ত্রী জলহস্তীর গর্ভধারণকাল প্রায় ২৪০ দিন বা আট মাস। সাধারণত পানির নিচে একটি শাবকের জন্ম দেয় জলহস্তী।

জন্মের পর শাবককে সাঁতরে পানির ওপরে উঠে প্রথম শ্বাস নিতে হয়। শাবক পানির নিচে ও ডাঙায়—দুই স্থানেই মায়ের দুধ পান করতে পারে। মা জলহস্তী শাবককে রক্ষায় কুমির বা অন্য শিকারি প্রাণীর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে।

সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী পরিদর্শক রাজু আহমেদ বলেন, জলহস্তীর আচরণ পানি ও ডাঙায় ভিন্ন হয়। পানিতে নিজেদের এলাকা রক্ষায় পুরুষ জলহস্তী উগ্র আচরণ করে। তবে ডাঙায় সাধারণত তারা একে অপরের এলাকা নিয়ে মাথা ঘামায় না। দিনের তীব্র রোদ ও তাপ এড়াতে কাদায় গা ডুবিয়ে থাকে। সংবেদনশীল ত্বক ঠান্ডা ও ভেজা রাখতে পানি ও কাদা সহায়তা করে।