হোম > সারা দেশ > গাজীপুর

শ্রীপুরে পোলট্রি ফিডের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ খামারিদের

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি  

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রীপুরে প্রান্তিক খামারিদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: আজকের পত্রিকা

পোল্ট্রি, গবাদিপশু ও মৎস্য খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গাজীপুরের শ্রীপুরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন প্রান্তিক খামারিরা। আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জৈনা বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে প্রায় ৩০ মিনিট ময়মনসিংহমুখী লেনে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

‘খামারি বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ স্লোগানে উপজেলার জৈনা বাজার এলাকায় ফুটওভার ব্রিজের নিচে বাংলাদেশের প্রান্তিক পোলট্রি খামারি ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন শেষে খামারিরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ময়মনসিংহমুখী লেন অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ওই লেনে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পোল্ট্রি ফিডের দাম কমানোর আল্টিমেটাম দিয়ে তাঁরা সড়ক ছেড়ে যান।

মানববন্ধনে খামারিরা অভিযোগ করেন, ফিডের দাম বাড়লেও ডিম ও মুরগির ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না তাঁরা। এতে লোকসানে পড়ে অনেক খামারি ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

বক্তারা বলেন, একটি পোল্ট্রি খামারের মোট উৎপাদন ব্যয়ের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ খাদ্য বাবদ খরচ হয়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতি বস্তা ফিডের দাম ১০০ থেকে ১১২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে দুই হাজার মুরগির একটি খামারে মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। একই সময়ে বাজারে ডিমের দাম কমে যাওয়ায় প্রান্তিক খামারিরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে দাবি করেন তাঁরা।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রীপুরে প্রান্তিক খামারিদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: আজকের পত্রিকা

খামারিদের অভিযোগ, বিভিন্ন ফিড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সিন্ডিকেটের কারণে প্রতি কেজি খাদ্যে প্রায় দুই টাকা এবং প্রতি বস্তায় ১০০ টাকার বেশি দাম বাড়ানো হয়েছে। উৎপাদন খরচ বাড়লেও সেই অনুপাতে ডিম ও মুরগির দাম না বাড়ায় খামারিদের লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে তাঁরা জানান।

বাংলাদেশ প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধান বলেন, ‘পোল্ট্রি সেক্টরের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে খামারিদের পাশে আছি। এর আগে ডিমের দাম ৫-৬ টাকা কমে গেলে আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম। তখন প্রতিমন্ত্রী খামারিদের সঙ্গে বৈঠক করে শুল্ক কমিয়ে উৎপাদন খরচ কমানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে দাম কমার পরিবর্তে ফিডের দাম আরও বেড়েছে।’

রাসেল প্রধান অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কোম্পানির মালিকপক্ষ সিন্ডিকেট করে প্রতি কেজি ফিডে প্রায় দুই টাকা করে দাম বাড়িয়েছে। প্রতি বস্তায়ও ১০০ থেকে ১১২ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

খামারি এমরানুল হক স্বপন বলেন, খাদ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে প্রান্তিক খামারিরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। খাদ্যের দাম কমানো, ভুট্টা ও অন্যান্য কাঁচামালের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার বা সমন্বয়, সয়াবিন ও ভুট্টাসহ ফিডের কাঁচামালে সরকারি ভর্তুকি, কৃষিখাতের মতো পোল্ট্রি খাতেও বিদ্যুতের সাশ্রয়ী রেট এবং ফিড মিলগুলোতে বিএসটিআইয়ের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারি পরিষদের সভাপতি আসাদুজ্জামান মামুন বলেন, আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে পোল্ট্রি খাদ্যের দাম কমাতে হবে। অন্যথায় ১ সেপ্টেম্বর ‘কাফনের কাপড়’ পরে দাবি আদায়ে আবারও রাস্তায় নামবেন তাঁরা।

খামারিদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।