গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় হাজী আব্দুর রহিম পাইকারি মার্কেটে আগুন দেওয়া ও মার্কেট পরিচালনা কমিটির এক নেতাকে হত্যার হুমকি দিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় জুয়েল আহমেদ (২৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআইয়ের দাবি, গ্রেপ্তারের পর আদালতে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার জুয়েল আহমেদ জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কাঠারবিল গ্রামের সাদা মিয়ার ছেলে। পিবিআই জানায়, গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানার দিঘীরচালা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই গাজীপুর জেলার উপপরিদর্শক সোহেল রানা বলেন, গত ৬ অক্টোবর বিকেল ৫টা ১৯ মিনিটে বাসন থানার চান্দনা চৌরাস্তার হাজী আব্দুর রহিম পাইকারি মার্কেট পরিচালনা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মিলটন হোসেনের মুঠোফোনে কল করে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এক অজ্ঞাত ব্যক্তি। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই ব্যক্তি সহযোগীদের নিয়ে মার্কেটে আগুন দেওয়ার এবং সুযোগ পেলে মিলটন হোসেনকে হত্যার হুমকি দেন। মার্কেটে যেকোনো সময় আগুন দিয়ে ক্ষতি করা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় মিলটন হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে বাসন থানায় মামলা করেন।
পিবিআই জানায়, ২০২২ সালের ২৫ ডিসেম্বর হাজী আব্দুর রহিম পাইকারি কাপড়ের মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডে পুরো মার্কেট পুড়ে যায়। সে সময় কয়েক হাজার কোটি টাকার মালামাল, নগদ টাকা ও আসবাবপত্র পুড়ে যায় বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, জুয়েল আহমেদ টেলিফোনে ওই অগ্নিকাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে মিলটন হোসেনকে হুমকি দেন। তিনি বলেন, এরপর একই ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটলে আরও বেশি ক্ষতি হতে পারে।
পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন দল ঘটনাটি আমলে নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় ১২ অক্টোবর স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার নেওয়া হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জুয়েল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, জুয়েল আহমেদ প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। তিনি ক্যাসিনো জুয়ায় আসক্ত হয়ে পোশাক কারখানা ও এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ করেন। ঋণের কারণে জুয়েল আহমেদ মার্কেটের সামনের সাইনবোর্ড থেকে মিলটন হোসেনের মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে ফোন করে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং চাঁদা না দিলে মার্কেটে আগুন দেওয়ার হুমকি দেন।
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডজনিত আকস্মিক দুর্ঘটনা রোধে প্রতিটি মার্কেটে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সফল অভিযানের মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে চাঁদাবাজির মতো অপরাধকে আটকানো গেছে এবং সম্ভাব্য নাশকতাও রুখে দেওয়া হয়েছে।’