একে একে ১৪ টি বছর কেটে গেল তাঁর চলে যাওয়ার। এ দেশের একটি প্রজন্মের কাছে যিনি ছিলেন গল্পের জাদুকর। তাঁর লেখা উপন্যাস পড়েই তারা জেনেছে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর প্রেম, ভালোবাসা, দ্বন্দ্বের স্বরূপ। শিখেছে পূর্ণিমা আর বৃষ্টি বন্দনা। আজ সেই প্রিয় জাদুকরের প্রয়াণ দিবসটিও বৃষ্টি মুখর। তবু আজ সকাল থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি মাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নুহাশ পল্লীতে ছুটে আসেন হুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা। হলুদ পাঞ্জাবী পরা হিমু পরিবারের সদস্যরাও আসেন শ্রদ্ধা জানাতে। কবরে ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ। মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে নুহাশপল্লীতে কোরআন খানি, দোয়া, মিলাদ ও এতিমদের খাবার বিতরণসহ নেওয়া হয় নানা আয়োজন।
আশপাশের কয়েকশ’ এতিম শিশুরা দিনব্যাপী এসব অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন তাঁর দুই পুত্র সন্তান নিষাদ ও নিনিতকে সঙ্গে নিয়ে সাড়ে ১১টার দিকে নুহাশ পল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তিনি এ সময় মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়ায় অংশ নেন। এ ছাড়া হুমায়ূন ভক্ত, হিমু ও রুপার চরিত্র সেজে প্রিয় লেখকের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অনেকে।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মেহের আফরোজ শাওন বলেন, `হুমায়ূন আহমেদ চলে গেছেন আজ ১৪ বছর। নূহাশ পল্লীর কর্মকর্তা ও আমরাই হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ও মৃত্যুদিন পালন করে থাকি। এর বাইরে সরকার, রাষ্ট্র কারও কাছে কিছু চাওয়ার নেই, আগেও ছিল না।'
১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। তাঁর বাবা ফয়েজুর রহমান ও মা আয়েশা ফয়েজ। ২০১২ সালে ১৯ জুলাই মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তিনি নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে মারা যান। তবে বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী হুমায়ূন তাঁর সৃষ্টিশীল কর্মের মাধ্যমে এদেশের ভক্ত ও অনুরাগীদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন, এটাই বিশ্বাস তাঁর অনুরাগীদের।