হোম > সারা দেশ > গাজীপুর

ট্রলারে জুয়া খেলার সময় পুলিশ আতঙ্কে নদে ঝাঁপ, যুবকের লাশ উদ্ধার

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি  

প্রতীকী ছবি

গাজীপুরে তুরাগ নদে ট্রলারে বসে জুয়া খেলার সময় কয়েকজনকে দেখে পুলিশ ভেবে পানিতে ঝাঁপ দেওয়া এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে নিখোঁজ হওয়ার পর শুক্রবার সকালে নগরের কড্ডা এলাকা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মোয়াজ্জেম হোসেন (৪৫) নগরের খালিশাবর্তা এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাজীপুরের তুরাগ নদের কাউলতিয়া, কারখানা বাজার, কড্ডাসহ আশপাশের এলাকায় কয়েক দিন ধরে নৌকায় জুয়া ও মাদকের আড্ডা বসানোর অভিযোগ রয়েছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। পুলিশ মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও নদে থাকায় তাদের ধরতে ব্যর্থ হয়।

বুধবার রাতে মোয়াজ্জেম হোসেনসহ চার থেকে পাঁচজন তুরাগ নদে একটি ট্রলারে বসে জুয়া খেলছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলারে কয়েকজন লোক তাঁদের ট্রলারের কাছে গেলে তাঁদের পুলিশ বলে মনে হয়। ভয়ে চারজন নদে ঝাঁপ দেন। পরে তিনজন তীরে উঠতে পারলেও মোয়াজ্জেম হোসেন নিখোঁজ হন।

খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। সন্ধান না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে একদল ডুবুরি উদ্ধার অভিযান চালায়। তবে সারা দিন অভিযান চালিয়েও মোয়াজ্জেমের সন্ধান পাওয়া যায়নি। শুক্রবার ভোরে কড্ডা এলাকায় তুরাগ নদে তাঁর লাশ ভেসে ওঠে। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।

মোয়াজ্জেমের চাচাতো ভাই দেলোয়ার হোসেন দাবি করেন, মোয়াজ্জেমসহ চার থেকে পাঁচজন তুরাগ নদে একটি ট্রলারে বসে ছিলেন। তখন পাঁচ থেকে ছয়জন লোক এসে তাঁদের ট্রলার থেকে নেমে আসতে বলেন। নেমে না এলে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। একপর্যায়ে ভয়ে চারজন নদে ঝাঁপ দেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন তীরে উঠতে পারলেও মোয়াজ্জেম নিখোঁজ হন।

গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ওই দিন সেখানে পুলিশের কোনো অভিযান চালানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁরা জুয়া খেলছিলেন এবং কয়েকজনকে দেখে পুলিশ ভেবে ভয় পেয়ে তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।