হোম > সারা দেশ > গাজীপুর

সেপটিক ট্যাংকে পড়ে শিশুর মৃত্যু, অর্থের বিনিময়ে ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টার অভিযোগ

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

খোলা সেপটিক ট্যাংকে পড়ে প্রাণ হারাল শিশু ঐশী। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় পূর্বচান্দরা মুন্সিরটেক এলাকায় অরক্ষিত সেপটিক ট্যাংকে পড়ে ঐশী রায় (৬) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় ভবনমালিকের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টারও গুঞ্জন রয়েছে।

নিহত ঐশী রায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার সমশ্যামনগর এলাকার সাগর চন্দ্র রায়ের মেয়ে। সে কালিয়াকৈরের একটি স্থানীয় বিদ্যালয়ের নার্সারির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা, নিহত শিশুর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার সন্ধানে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কালিয়াকৈরে আসেন সাগর চন্দ্র রায়। পরে তিনি পূর্বচান্দরা মুন্সিরটেক এলাকার মোজ্জাফর আলীর বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানে চায়ের দোকান করে সংসার চালাতেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যায় ঐশী বাড়ির পাশের একটি বাসায় প্রথম দিন প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিল। পথে মাহমুদা বেগমের বহুতল ভবনের সামনে দীর্ঘদিন ধরে খোলা থাকা একটি অরক্ষিত সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যায় সে।

ঘটনা টের পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে সফিপুর এলাকার তানহা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কালিয়াকৈর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর লাশ মর্গে না পাঠিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বজনেরা লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকনা না থাকায় সেপটিক ট্যাংকটি অরক্ষিত অবস্থায় ছিল। এ কারণেই শিশুটি সেখানে পড়ে যায়। ভবনমালিকের উদাসীনতা ও গাফিলতিতে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ভবনের মালিক অর্থের বিনিময়ে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়েছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহত শিশুর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে ভবনমালিক মাহমুদা বেগমে বলেন, ‘আমার সেপটিক ট্যাংক অরক্ষিত না হলেও আরও এমন ঘটনা ঘটত। ওই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে। এটা নিয়ে নিউজ করার কী আছে?’ মীমাংসা কীভাবে হয়েছে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ওপর মহলের মাধ্যমে মীমাংসা হয়েছে। তবে বিস্তারিত জানতে চাইলে ‘ওপর মহল থেকে নিষেধ করা হয়েছে’ বলেও জানান তিনি।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম বলেন, নিহত শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল, কিন্তু এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় লাশ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।