গাজীপুরের কালীগঞ্জে আবারও পল্লী বিদ্যুতের জরাজীর্ণ ও নড়বড়ে খুঁটি নিয়ে জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। গত মে মাসে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে এক স্কুলশিক্ষিকার মৃত্যুর স্মৃতি এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন কালীগঞ্জবাসী। এরই মধ্যে পৌরসভার ব্যস্ততম তুমুলিয়া মোড় এলাকায় একটি বিদ্যুতের খুঁটির গোড়া থেকে মাটি সরে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় নতুন করে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনার কারণে যেকোনো সময় ঝরে যেতে পারে প্রাণ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কালীগঞ্জ পৌরসভার তুমুলিয়া মোড় এলাকাটি অত্যন্ত জনবহুল ও ব্যস্ততম একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এখানে চারটি বাস ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এবং শত শত যানবাহন এই পথ দিয়ে চলাচল করে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকা বিদ্যুতের খুঁটির গোড়ায় পর্যাপ্ত মাটি নেই। খুঁটির চারপাশের ফাঁকা অংশে বৃষ্টির পানি জমে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পথচারীদের ধারণা, খুঁটিটি বর্তমানে কেবল বিদ্যুতের তারের টানেই কোনো মতে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ঝোড়ো বাতাস বা ভারী বৃষ্টিপাত হলে যেকোনো মুহূর্তে এটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর আগে গত ৬ মে উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের শিমুলিয়া এলাকায় একইভাবে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে প্রাণ হারান শিউলি বেগম (৪৫) নামে এক স্কুলশিক্ষিকা।
বিদ্যুতের খুঁটির ঠিক সামনেই দোকান মো. মিলন মোল্লার। তিনি বলেন, ‘খুঁটিটি ঠিক আমার দোকানের সামনেই। এর গোড়ায় যে পরিমাণ মাটি সরে গিয়ে গর্ত হয়েছে, তাতে সামান্য বাতাসেই এটি পড়ে যাবে। খুঁটিটি পড়লে শুধু আমার দোকান নয়, এখানে থাকা অটোরিকশা স্ট্যান্ডের চালক ও যাত্রীদের ওপরও পড়বে। আমরা সারাক্ষণ জীবন নিয়ে শঙ্কায় আছি।’
তুমুলিয়া মোড়ের এই ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটির বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি এ দপ্তরে নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি মাত্রই অবগত হলাম। যেহেতু জায়গাটি জনগুরুত্বপূর্ণ এবং আগে এমন একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাই আমরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’