চুরির অপবাদে ময়মনসিংহের ভালুকায় সুজনকে পিটিয়ে আহত করেন কয়েকজন ব্যক্তি। এতে অচেতন হয়ে পড়লে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে এনে তাঁকে ফেলা রাখা হয় গাজীপুরের শ্রীপুরের একটি ময়লার স্তূপে। সেখানে স্থানীয়রা তাঁকে দেখতে পেয়ে মাথায় পানি ঢেলে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।
গতকাল সোমবার রাতে শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ফুটওভার ব্রিজের নিচে ময়লার স্তূপ থেকে সুজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মো. সুজন মিয়ার (২৭) বাড়ি শেরপুর জেলায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে সুজনকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে অচেতন অবস্থায় জৈনা বাজারে ময়লার স্তূপে ফেলে রেখে যান কয়েকজন ব্যক্তি। স্থানীয়রা সুজনকে দেখতে পেয়ে তাঁর মাথায় পানি ঢেলে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁকে বাঁচানো যায়নি।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, মৃত্যুর আগে সুজন স্থানীয় লোকদের জানিয়েছেন, ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার লোকজন তাঁকে চোর সন্দেহে মারপিট করেন। এতে গুরুতর আহত হলে তাঁকে সিএনজিতে তুলে গাজীপুরের দিকে রওনা হন। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা-পুলিশ রাতে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনূর আলম জানান, জানতে পেরেছি, ভালুকার মাস্টারবাড়ি এলাকায় একটি ইলেকট্রনিকস পণ্যের দোকানে চুরির সন্দেহে সুজনকে মারধর করেন ওই এলাকার লোকজন। পরে তাঁকে সিএনজিতে করে জৈনা বাজার এলাকায় ফেলে যান। সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। স্বজনদের অভিযোগ ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ভালুকা মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রীপুর থানার ওসি বিষয়টি জানানোর পরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা বলা যাবে।