হোম > সারা দেশ > গাজীপুর

শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যার পরদিন থানায় হাজির জামাতা

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

ঘাতক জামাতা মোজাম্মেল হক। ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের কালীগঞ্জে মাথায় কলার ছড়া নিয়ে বাজারে যাওয়ার সময় শ্বশুর মজিদ মোড়লকে (৭০) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত জামাতা মোজাম্মেল হক ওরফে মুজা সরকার (৩৫) থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছেন। আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে কালীগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন।

এর আগে গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলার জামালপুর বাজারের ভাঙারিপট্টি গলিতে ইলিয়াসের দোকানের সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত মজিদ মোড়ল উপজেলার জামালপুর এলাকার মধ্যপাড়ার মৃত আলকু মোরেলের ছেলে। তিনি পেশায় কলা ব্যবসায়ী ছিলেন। অভিযুক্ত মোজাম্মেল হক একই এলাকার মধ্যপাড়ার মৃত নোয়াব আলী সরকারের ছেলে।

নিহতের পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে মজিদ মোড়লের মেয়ে শাহানারার (২৮) সঙ্গে মোজাম্মেলের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই মোজাম্মেল তাঁর স্ত্রী শাহানারাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। প্রায়ই শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য শাহানারাকে চাপ দেওয়া হতো। কিন্তু কলা বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চালানো বৃদ্ধ মজিদ মোড়লের পক্ষে জামাতার অতিরিক্ত অর্থের দাবি মেটানো সম্ভব ছিল না। টাকা দিতে না পারায় শাহানারাকে নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হতে হতো।

এর জের ধরে ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে মোজাম্মেল তাঁর স্ত্রী শাহানারাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর থেকে শাহানারা বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন এবং স্বামীর সংসারে আর ফিরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

শুক্রবার বিকেলে প্রতিদিনের মতো মজিদ মোড়ল মাথায় কলার ছড়া নিয়ে জামালপুর বাজারের উদ্দেশে রওনা হন। পথে জামাতা মোজাম্মেল তাঁকে ‘কথা আছে’ বলে ডেকে নেন। একপর্যায়ে ধারালো কুড়াল দিয়ে তাঁর মাথায় উপর্যুপরি কোপ দেন। এতে মজিদ মোড়ল গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই নিহতের ছেলে মো. লিটন মোড়ল (২৬) বাদী হয়ে মোজাম্মেল হককে একমাত্র আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর রাতেই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। পুলিশের সম্ভাব্য গ্রেপ্তারি অভিযানের মুখে শনিবার সকালে নিজেই থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন মোজাম্মেল।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শ্বশুরকে কুড়াল দিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ রাতেই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। শনিবার সকালে জামাতা মোজাম্মেল নিজেই থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।