হোম > সারা দেশ > গাজীপুর

গাজীপুর সাফারি পার্কে পর্যটকদের মারধরের অভিযোগে মামলা, আসামি ৬

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি  

পর্যটকদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে সাফারি পার্কের কর্মীদের বিরুদ্ধে। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুরের শ্রীপুরে গাজীপুর সাফারি পার্কে পর্যটকদের মারধরের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় পার্কের ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে নারী পর্যটক সালমা মোস্তারী শ্রীপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম আজ রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার বিকেলে সাফারি পার্কে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে এক নারী পর্যটক, তাঁর দুই ছেলে ও গাড়িচালককে বন বিভাগের কর্মীরা মারধর করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় পাল্টা বন বিভাগের এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগও ওঠে পর্যটকদের বিরুদ্ধে।

ঘটনার পর ওইদিনই বন বিভাগ মো. ফরহাদ নামের এক কর্মীকে বরখাস্ত করে।

মামলার এজাহার ও বাদীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সালমা মোস্তারী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শনিবার গাজীপুর সাফারি পার্কে বেড়াতে যান। পার্কের পর্যটকবাহী বাসে ওঠার সময় গাড়ির ভেতরে ময়লা-আবর্জনা থাকায় বিষয়টি কর্মীদের জানান তাঁরা। ময়লা-আবর্জনার বিষয়টি নিয়ে পার্কের কর্মীদের সঙ্গে সালমাদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁদের বহনকারী বাসটি নির্ধারিত স্থানে না থামিয়ে পার্ক অফিসে নেওয়া হয়।

সালমার অভিযোগ, পার্ক অফিসে নেওয়ার পর তাঁকে, তাঁর দুই ছেলে মো. জারিফ ও মো. মাহিন এবং গাড়িচালক মো. রাসেলকে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁর স্বর্ণের চেইন ও ব্যাগে থাকা টাকা নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তাঁর ও দুই ছেলের মুঠোফোন ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে শ্রীপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।

বন বিভাগের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মো. মুমিন নামের এক কর্মীকে ওই পর্যটক ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা মারধর করেছেন। আহত মুমিনকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এ ঘটনায় পার্কের আউটসোর্সিং কর্মী মো. ফরহাদকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অপর এক কর্মী পর্যটকদের হামলায় আহত হয়েছেন। আমরাও আইনগত পদক্ষেপ নেব। সেই প্রক্রিয়া চলমান।’

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুর আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মামলা হয়েছে। এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

শাহীনুর আলম আরও জানান, সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ পাল্টা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।