গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে নয়, স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার প্রতিবাদ করায় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এ হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে আজ মঙ্গলবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত রোববার রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কালিয়াকৈরের বড়ইতলী গ্রামের ইমরুল হাসান মামুন (৪৪) ও টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলার লেকেরপাড় এলাকার জাহিদুল ইসলাম (৩০)।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার রাতে কালিয়াকৈরের কালামপুর এলাকায় যাত্রীবেশে অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে তাঁর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন আসামিরা। এ সময় আশপাশের লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁরা অটোরিকশা ফেলে পালিয়ে যান। পরে নিহতের স্ত্রী শাহানাজ বেগম থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, নিহত সুমনের সঙ্গে পূর্বপরিচয় ছিল গ্রেপ্তার মামুন ও জাহিদুলের। তাঁরা একসঙ্গে নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। কয়েক মাস আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন সুমন। তখন মামুন তাঁর চিকিৎসার খরচ বহন করেন। পরে সুমন সুস্থ হলে চিকিৎসার খরচ বাবদ মামুন তাঁর কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা পরিশোধে দেরি হওয়ায় সুমনের স্ত্রী শাহানাজকে কুপ্রস্তাব দেন মামুন।
বিষয়টি শাহানাজ তাঁর স্বামী সুমনকে জানালে তিনি এর প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে মামুনের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। এই জের ধরে সুমনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মামুন। গত বুধবার রাতে যাত্রীবেশে সুমনকে ছুরিকাঘাত করা হয়। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।