গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে জামাতার লাঠির আঘাতে হাফিজ উদ্দিন (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড দারোগারচালা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জামাতা ফিরোজ (২৫) পলাতক রয়েছেন।
নিহত হাফিজ উদ্দিন নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামের সাহাবউদ্দিনের ছেলে। তিনি শ্রীপুরের সলিং মোড় এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত ফিরোজ নেত্রকোনার কলমাকান্দার রংছাতি গ্রামের ফেরদৌস মিয়ার ছেলে এবং দারোগারচালা গ্রামের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
নিহতের স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে ফিরোজ তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হন। স্ত্রী বিষয়টি তাঁর বাবা হাফিজ উদ্দিনকে জানালে তিনি মেয়ের ভাড়া বাড়িতে যান। সেখানে জামাতা ফিরোজের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ফিরোজ বাঁশের লাঠি দিয়ে শ্বশুরকে আঘাত করেন।
লাঠির আঘাতে হাফিজ উদ্দিন ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন। স্থানীয় অন্য ভাড়াটেরা তাঁকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর সংবাদ ছড়াতেই অভিযুক্ত ফিরোজ ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যান।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, গতকাল মঙ্গলবার রাতে হাফিজ উদ্দিনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।’