গাজীপুরের শ্রীপুরে চাঁদার দাবিতে এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ৬ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা ফজলুল হক রোমানের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে স্বামীকে উদ্ধার করতে গিয়ে সেখানে ভুক্তভোগীর স্ত্রী লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে যুবদল নেতা।
পরে খবর শুনে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে অভিযুক্ত যুবদল নেতার ব্যক্তিগত ওই কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন দলের নেতা-কর্মীরা। সেই সঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ওই আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
আজ শুক্রবার দুপুরে উপজেলার মাওনা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন যুবদল নেতার অফিস বন্ধ করে তালাবদ্ধ করে স্থানীয়রা।
এর আগে গতকাল ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মো. আতিকুল ইসলাম (৫০) নামে ওই ওষুধ ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। পরে ওই দিন রাতে চাঁদাবাজির অভিযোগে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। অভিযোগে ফজলুল হক রোমানসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আতিকুল ইসলাম উপজেলার মাওনা উত্তরপাড়া এলাকার জনৈক আব্দুল লতিফের ছেলে। তিনি ডেকু গার্মেন্টসের সামনে সরকার মার্কেটে ওষুধের দোকান পরিচালনা করেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত ফজলুর হক রোমান (৪৫) উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকার মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি মাওনা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক।
ভুক্তভোগী আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১ তারিখে (সেপ্টেম্বর) রাতে এক নারী আমার দোকানে এসে ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই হার্টের ওষুধ চান। ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধ না দেওয়ায় বিষয়টি যুবদল নেতা ফজলুল হক রোমানকে জানানো হয়। পরে ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে রোমানের ভাতিজা জাহিদের মাধ্যমে আমাকে মাওনা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে তাঁর অফিসে ডেকে নেওয়া হয়।’
আতিকুল আরও বলেন, ‘সেখানে যাওয়ার পর আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে লোহার রড দিয়ে আমার দুই ঊরুতে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত প্রায় ছয় ঘণ্টা আমাকে সেখানে আটকে রেখে দফায় দফায় নির্যাতন করা হয়েছে।’
ব্যবসায়ী আতিকুলের অভিযোগ, সেখানে তাঁর সঙ্গে থাকা ওষুধ ও বিকাশ ব্যবসার মূলধনের ৫০ হাজার টাকা জোর করে নিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবি করা টাকা না দিলে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমাকে আটকে রাখার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। এ সময় আমার স্ত্রী বিষয়টির প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁকেও লাঞ্ছিত করা হয়েছে।’
আতিকুল ইসলাম জানান, একপর্যায়ে তাঁর বড় ভাই মো. শফিকুল ইসলাম স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় তাঁকে উদ্ধার করেন। এরপর শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
এ দিকে ব্যবসায়ীকে নির্যাতন এবং তাঁর স্ত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগের ঘটনায় অভিযুক্ত ফজলুল হকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
অভিযুক্ত যুবদল নেতা ফজলুল হক রোমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়াও তাঁর বিষয়ে বক্তব্য জানতে শ্রীপুর উপজেলা যুবদলের সভাপতি সারোয়ার হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কয়েকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম বলেন, ‘অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত ফজলুল হকের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’