ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে টানা চার দিনের ছুটি পাওয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঈদের মতো উৎসবের চিত্র দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভোট দিতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন গাজীপুরের কয়েক লাখ পোশাকশ্রমিক।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোমবার বিকেলে পোশাক কারখানাগুলো থেকে ছুটি শুরু হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ একসঙ্গে রওনা হওয়ায় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ফলে থেমে থেমে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়, যা দেশের উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়েছে। শুধু পোশাকশ্রমিক নয়, উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার মৌসুমি কৃষিশ্রমিকেরাও ভোট দিতে গ্রামে ফিরছেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই গাজীপুরের চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকায় বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি লক্ষ করা গেছে। যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে যে সময় লাগত, এখন অনেক ক্ষেত্রে তার কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে।
ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে বিভিন্ন কারখানা থেকে ছুটি শুরু হলে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা থেকে বাড়ইপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়েছিল। মঙ্গলবার সকালে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলেও যাত্রীদের চাপ কমেনি।
বাড়িমুখী শ্রমিক ও যাত্রীরা জানান, ভোটে অংশ নিতে তাঁরা উন্মুখ হলেও মহাসড়কে যানজট ও ভাড়া বেশি হওয়ার কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকে অভিযোগ করেছেন, ভিড়ের সুযোগ নিয়ে পরিবহন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন।
টাঙ্গাইলের পোশাকশ্রমিক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘ভোট দেওয়ার জন্য ছুটি পেয়ে রওনা দিয়েছি, কিন্তু চন্দ্রা মোড়েই এক ঘণ্টা আটকে আছি। কখন পৌঁছাব জানি না।’
কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সওগাতুল আলম জানান, নির্বাচনের কারণে পুলিশের বড় অংশ নির্বাচনী দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় মহাসড়কে পর্যাপ্ত জনবল মোতায়েন করা সম্ভব হয়নি। স্বল্প জনবল দিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন তাঁরা।