পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শিল্পনগরী গাজীপুরের সব শিল্পকারখানায় দ্বিতীয় ধাপে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষের ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। দুপুরের পর মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে বৈরী আবহাওয়া ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে ঈদযাত্রায় বাড়াচ্ছে দুর্ভোগ।
আজ সকাল থেকে গাজীপুর জেলার বাকি শিল্পকারখানাগুলোয় ছুটি কার্যকর হয়। ছুটি পেয়েই লাখ লাখ শ্রমজীবী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা-গাজীপুর ও চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
এর আগে গতকাল সোমবার গাজীপুরের প্রায় ৪০ শতাংশ শিল্পকারখানা ছুটি ঘোষণা করলে রাতভর উত্তরাঞ্চলগামী মহাসড়কে যানজটের চাপ সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কয়েক লাখ মানুষ গাজীপুর ছেড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হন। এতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের।
আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় ঘরমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। পরিবার-পরিজন, ব্যাগপত্র ও ঈদের কেনাকাটার সামগ্রী নিয়ে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় অনেক যাত্রীকে। অনেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত পরিবহন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন।
রংপুরগামী যাত্রী প্রদীপ বলেন, সকালে কারখানা ছুটির পরপরই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। কয়েকটি বাসের কন্ডাক্টরের সঙ্গে কথা বললেও হাজার টাকার নিচে কেউ ভাড়া নিতে রাজি হননি। অথচ ট্রাকে গেলে খুব কম টাকায় যাওয়া সম্ভব। অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে অনেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
পরিবহনের চালকেরা জানান, সব শিল্পকারখানায় একযোগে ছুটি হওয়ায় শেষ মুহূর্তে যাত্রীর চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। উত্তরবঙ্গমুখী মহাসড়কে এমনিতে যানজট থাকে। দুপুরের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাউগাতুল আলম বলেন, গতকাল সোমবার গাজীপুরের প্রায় ৪০ শতাংশ কারখানা ছুটি হয়েছিল, আজ বাকি ৬০ শতাংশ কারখানাও ছুটি হয়েছে। ফলে আজ মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ অনেক বেশি থাকবে। শুধু গাজীপুর নয়, ঢাকা ও সাভারের লাখ লাখ মানুষ এই মহাসড়ক ব্যবহার করবে। এতে কিছুটা ভোগান্তি তৈরি হতে পারে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।