শিক্ষকসহ জনবলসংকটে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে গাজীপুরের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি। জনবল না থাকায় সাতটি ট্রেডের মধ্যে দুটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। আউটসোর্সিং জনবল দিয়ে কোনোমতে চলছে বাকিগুলোর কার্যক্রম।
জানা গেছে, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) কার্যক্রম শুরু করে ২০২২ সালে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ইলেকট্রিক্যাল, গার্মেন্টস, আইটি সাপোর্ট টেকনিশিয়ান (কম্পিউটার অপারেশন ও গ্রাফিকস), রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশন (আরএসি), মেশিন টুলস অপারেশন, সিভিল কনস্ট্রাকশন, অটো ড্রাইভিংসহ মোট সাতটি ট্রেড রয়েছে।
শুরু থেকে ছিল জনবলসংকট। অধ্যক্ষ ছাড়াও বেশির ভাগ শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান একজন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষক-কর্মচারীদের পদের সংখ্যা ৮৫। কিন্তু আছেন মাত্র ৪ জন শিক্ষক। শূন্য পদের সংখ্যা ৮১।
এই কেন্দ্রে রয়েছেন একজন অধ্যক্ষ, একজন সিনিয়র ইনস্ট্রাক্টর, একজন ইনস্ট্রাক্টর (ডিপ্লোমা) এবং একজন ইনস্ট্রাক্টর (নন-ডিপ্লোমা)। শিক্ষক-সংকটের কারণে মেশিন টুলস অপারেশন ও সিভিল কনস্ট্রাকশন ট্রেড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
এ ছাড়া আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগ করা হয়েছে ১ জন কম্পিউটার অপারেটর, ১ জন কেয়ারটেকার, ২ জন স্কিল ওয়ার্কার, ১ জন কারখানা সহকারী, ৫ জন নিরাপত্তাপ্রহরী, ৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ১ জন ইলেকট্রিশিয়ান, ১ জন মালি ও ১ জন কুক।
প্রয়োজনীয় শিক্ষক এবং অন্য জনবল না থাকায় ল্যাবরেটরিতে দীর্ঘদিন পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি পারছে না আশানুরূপ দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে আসা যন্ত্রপাতি ও মেশিন এখনো প্যাকেট বন্দী অবস্থায় রয়েছে। দুটি ট্রেডের ল্যাবরেটরিতে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি।
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষার্থী মিনহাজ উদ্দিন বলেন, সুন্দর অবকাঠামো, আধুনিক ল্যাবরেটরি, যন্ত্রপাতি, মেশিন থাকলেও নেই প্রশিক্ষক। যাঁর কারণে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন না। জনবল থাকলে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হতো। এখন আশানুরূপ দক্ষ জনশক্তি তৈরি হচ্ছে না। জনবল নিয়োগ দিলে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারত।
আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগ পাওয়া একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘ সময় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান পদ ‘অধ্যক্ষ’ শূন্য ছিল। শিক্ষক কর্মচারী নেই বললেই চলে। ৮৫ জনের জনবলের বিপরীতে রয়েছে মাত্র ৪ জন।
কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি বেশির ভাগ আউটসোর্সিং জনবলে চলছে। এরই মধ্যে জনবল চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সঠিক জনবল পেলে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হতো। জনবলসংকটের কারণে অনেক সমস্যা হচ্ছে। এ কারণে দুটি ট্রেড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। জনবল পেলে এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বেকারত্ব দূর করতে সহায়ক হবে।