হোম > সারা দেশ > গাজীপুর

গাজীপুরে দুই মাদ্রাসাছাত্রকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, তিন শিক্ষক গ্রেপ্তার

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরে তিন মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মহানগরের গাছা থানার পশ্চিম ঝাঁঝড়ের সাক্রাউরী এলাকায় দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের পর আগুনে উত্তপ্ত লোহার খুন্তি দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর পরিবার গাছা থানায় মামলা করেছে।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া থানার চরমুহুরী গ্রামের রইছ উদ্দিন আহাম্মদের ছেলে শোয়াইব হোসেন (২৬), ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার বরমা গ্রামের মো. ওয়াদুদের ছেলে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান (২৬) ও শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী উপজেলার ভাইডাঙ্গা গ্রামের মো. শাহিন (১৯)। মাওলানা শোয়াইব হোসেন আল-মাদরাসাতু দারুত তাকওয়া গাজীপুর মাদ্রাসার পরিচালক, হাবিবুর রহমান ও শাহিন ওই মাদ্রাসার শিক্ষক।

নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীরা হচ্ছে কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী থানার সিংপুর গ্রামের নাজমুল মিয়ার ছেলে (১৩) ও শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের মো. লাল মিয়ার ছেলে (১৩)। এ ঘটনায় গাছা থানায় বাদী হয়ে পৃথক মামলা করেছেন দুই শিশুর বাবা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা শোয়াইব আহাম্মদ এক শিশুকে উলঙ্গ করে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মারধর করেন। মারধরের একপর্যায়ে লোহার খুন্তি গরম করে নিতম্বে ছ্যাঁকা দেন।

একই কথা জানিয়েছেন অপর শিশুর বাবা। তিনি জানান, একই দিন বিকেলে মাদ্রাসা মাঠে খেলাধুলার একপর্যায়ে পায়জামা খোলাকে কেন্দ্র করে তাঁর ছেলেকে মাওলানা শোয়াইব একটি কক্ষে আটকে রেখে মুখে স্কচটেপ দেন। তাঁর হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে এবং পরনের পোশাক খুলে উলঙ্গ অবস্থায় বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে মাওলানা শোয়াইব আগুনে লাল-উত্তপ্ত লোহার খুন্তি দিয়ে তাঁর ছেলের তলপেটে ছ্যাঁকা দেন। দুই শিশুকে গরম লোহার খুন্তি দিয়ে উরু ও নিতম্বসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম করেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক শিশুর পরিবারের করা মামলায় মাওলানা শোয়াইবকে গতকাল শুক্রবার গ্রেপ্তার করে আজ শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অপর ভুক্তভোগীর বাবার করা মামলায় আজ শনিবার হাবিবুর রহমান ও শাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগামীকাল রোববার তাঁদের আদালতে পাঠানো হবে।