হোম > সারা দেশ > গাইবান্ধা

বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের নথিতে গরমিল, ওসি-এসআইকে আদালতে তলব

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি 

ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ ও এসআই মো. মিজানুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পুলিশের করা বিস্ফোরণ মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের বয়স, গ্রেপ্তারের কারণ ও সময় এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিতে অসঙ্গতি পেয়েছেন আদালত। মামলার নথিতে তদন্তকারী কর্মকর্তার নাম, পদবি, সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ত্রুটি ধরা পড়েছে।

এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. মিজানুর রহমানকে আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের (সুন্দরগঞ্জ) বিচারক পাঁপড়ি বড়ুয়া। মামলার নথি পর্যালোচনা ও শুনানির সময় এসব অসঙ্গতি আদালতের নজরে আসে বলে জানান তিনি।

বিচারক পাঁপড়ি বড়ুয়া বলেন, নথিতে আসামিদের বয়স, গ্রেপ্তারের কারণ ও সময় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। একই সঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তার নাম, পদবি, সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ত্রুটি রয়েছে। এসব বিষয় যথাযথভাবে যাচাই না করে কেন আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা জানতে ওসি ও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তলব করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বিস্ফোরণ মামলায় তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার পর তাঁদের বয়স, শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং গ্রেপ্তারের সময় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আসামি সুলতান আহম্মেদ আদালতে তাঁর বয়স ৭২ বছরের বেশি বলে দাবি করেন। তিনি লিভার ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত বলেও জানান।

অন্য আসামি লিটন মিয়ার দাবি, তাঁকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গ্রেপ্তার করা হলেও পুলিশের ফরোয়ার্ডিংয়ে গ্রেপ্তারের সময় বেলা সাড়ে ৩টা উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে আনিছুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হলে তাঁর চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র দাখিলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

এ ছাড়া মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. মিজানুর রহমান দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করেছেন কি না, তা ব্যাখ্যা করতেও তাঁকে আদালতে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দিয়েছেন। তিনিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব দেবেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর ভোররাতে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড ও দহবন্দ ইউনিয়নের গোপালচরণ গ্রামে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই পুলিশ বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে মামলা করে।

ওই মামলায় গ্রেপ্তার তিনজন হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শান্তিরাম ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক মো. আনিছুর রহমান (৫২), সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি সুলতান আহম্মেদ (৬৫) এবং যুবলীগ নেতা মো. লিটন মিয়া (৩৯)।