গাইবান্ধায় নেশার টাকা জোগাড় করতে ১৩ মাস বয়সী কন্যাশিশুকে বিক্রির অভিযোগে বাবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন।
গ্রেপ্তাররা হলেন শিশুটির বাবা হামিদুল মিয়া, বাসের হেলপার মজিদ, মোছা. মোরশেদা ও সোলেমান চৌকিদার।
পুলিশ জানায়, গতকাল রবিবার গাইবান্ধা ও রংপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে সারবাজার এলাকা থেকে হামিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ছোট ওমরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাসের হেলপার মজিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া এলাকা থেকে মোরশেদাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া ছলের মোড় এলাকায় সোলেমান চৌকিদারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১৩ মাস বয়সী শিশু ফাতেমা জান্নাতকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই বিস্কুট কিনে দেওয়ার কথা বলে মেয়ে ফাতেমাকে কোলে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন বাবা হামিদুল। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার দুদিন পর হামিদুল মুঠোফোনে স্ত্রী রুমানা আক্তারকে জানান, ১০ হাজার টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়া হবে। আর্থিক সংকটের কারণে রুমানা ওই টাকা দিতে পারেননি। এরপর হামিদুল মুঠোফোন বন্ধ করে দেন।
পরে সন্তানকে ফিরে পেতে রুমানা আদালতে মামলা করেন এবং পুলিশের দ্বারস্থ হন।
সন্তানকে ফিরে পেয়ে রুমানা বেগম বলেন, ‘আজ আমার কোল ভরি গেল, যারা আমার স্বামীর কাছে থেকে আমার সন্তানকে কিনে নিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই।’
পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে হামিদুলের সঙ্গে রুমানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মাদকের টাকা জোগাড় করা নিয়ে হামিদুল স্ত্রীকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সন্তান জন্মের পর পরিস্থিতির অবনতি হলে মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান রুমানা।
পরিবারের অভিযোগ, মাদকের টাকা জোগাড় করতেই শিশুটিকে নিয়ে যান হামিদুল। পরে শিশুটিকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়। তবে হামিদুল পুরো টাকা পাননি। তিনি ৩১ হাজার টাকা পেয়েছেন।
পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, পুলিশের কাছে অভিযোগ আসার পর জেলা ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল কাজ শুরু করে। আসামিরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করার কারণ কিছু বেগ পেতে হলেও তাদের গ্রেপ্তার করে শিশুটিকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামিদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে হাজির করা হবে।