গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসীঘাটের অদূরে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ ও নদীভাঙন রোধের দাবিতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ শনিবার দুপুরে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব খোলাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দারা নদীতে গিয়ে বালু তোলায় ব্যবহৃত একটি ড্রেজার ও একটি নৌকা আটক করেন। পরে খবর পেয়ে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ড্রেজার ও নৌকার মালিককে জরিমানা করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বালাসীঘাটের কাছে খোলাবাড়ী গ্রামের উজান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। নদীর তীরের কাছ থেকে বালু তোলায় আশপাশে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব খোলাবাড়ী ও উড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর উড়িয়া গ্রামের বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, ‘বালু উত্তোলন বন্ধ ও নিজেদের বসতভিটা, ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে এর আগে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ এবং মানববন্ধন করেছি। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় আজ সকালে আমরা একত্রিত হয়ে নদীতে যাই। একপর্যায়ে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার ও একটি নৌকা আটক করি।’
পূর্ব খোলাবাড়ীর বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘নদীর পাড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। বালু তোলা বন্ধ না হলে আমাদের বসতভিটা ও জমি রক্ষা করা কঠিন হবে। নিজেদের ঘরবাড়ি ও জমি রক্ষার জন্যই আমরা নদীতে গিয়ে ড্রেজার আটক করেছি।’
ওই গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী বলেন, ‘নদী ভাঙতে ভাঙতে আমাদের শেষ সম্বলটুকু যদি চলে যায়, তাহলে কোথায় যাব? বালু উত্তোলন বন্ধ করে নদীভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’
কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা শালু বলেন, ‘নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে ড্রেজার মালিক মিলন মিয়া এবং নৌকার মালিক হেলোয়ার হোসেনকে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।’