গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুলের বিরুদ্ধে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া এবং তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ আলো আহমেদ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মইনুল হাসান সাদিক। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁর কাছে এ বিষয়ে একটি চিঠি পাঠান সংসদ সদস্য।
চিঠিতে গাইবান্ধা সফরকালে সার্কিট হাউসে এক ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় স্পষ্ট না করে তাঁকে সংসদ সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, এ টি এম রাশেদুজ্জামান রোকন গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ফুলছড়ি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ৬ মার্চ রাতে গাইবান্ধা জেলা শহরের হকার্স মার্কেট এলাকা থেকে পুলিশের ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল ওই অধ্যক্ষকে সঙ্গে নিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ আলো আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করান। পরে তাঁদের একসঙ্গে থাকা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
গাইবান্ধা জেলা কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির সদস্য শেখ কামাল বলেন, ‘আমরা তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের মামলা-হামলা, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। দল ক্ষমতায় আসার পরও আমাদের কোনো মূল্যায়ন নেই। যাঁরা আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ছিলেন, তাঁদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ যাঁরা রাজপথে ছিলেন, তাঁদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়ালেও দলীয়ভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল বলেন, কঞ্চিপাড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রাশেদুজ্জামান রোকনসহ কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকা গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে সংসদ সদস্য মমতাজ আলো আহমেদকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
টিটুলের দাবি, অধ্যক্ষ সেখানে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে এসেছিলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়। ওই সময়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ আলো আহমেদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির কয়েকজন নেতাকে মামলা, গ্রেপ্তার এড়ানো, ঠিকাদারি কাজ ও সার ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে বিএনপির কিছু নেতার অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুলসহ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।