হোম > সারা দেশ > গাইবান্ধা

সুন্দরগঞ্জে পৈতৃক সম্পত্তির বিরোধে ঘরে অগ্নিসংযোগ, বড় ভাই-ভাবি দগ্ধ

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি 

আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘর। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের বসতঘরে অগ্নিসংযোগ ও হামলার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ঘরে ঘুমিয়ে থাকা বড় ভাই মো. মোকলেছুর রহমান (৭০) ও তাঁর স্ত্রী মোছা. রেজিয়া বেগম (৬৫) দগ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনাটি উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার চরে গত সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দগ্ধ মোকলেছুর রহমান ও অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন (৫০) একই গ্রামের মৃত আমান উদ্দিনের ছেলে।

এ ঘটনায় দগ্ধ মোকলেছুর রহমানের ছেলে মো. এরশাদুল ইসলাম (৪২) সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন। এতে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম রেজা। তিনি বলেন, ‘এ-সংক্রান্ত একটি এজাহার সোমবার রাতে পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মামলার এজাহার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোকলেছুর রহমান ও নাসির উদ্দিন আপন ভাই। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে গত ৪ মে নাসির উদ্দিন তাঁর বড় ভাই মোকলেছুর রহমানের পরিবারের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়। এর ২১ দিন পর গত ২৫ মে মোকলেছুর রহমানের স্ত্রী রেজিয়া বেগম সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, ওই মামলায় ক্ষিপ্ত হয়ে নাসির উদ্দিন ও তাঁর লোকজন আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৫ অক্টোবর ভোরে মোকলেছুর রহমানের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের পর হামলা চালানো হয়। এতে ঘরের একটি কক্ষ পুড়ে যায় এবং ঘুমিয়ে থাকা মোকলেছুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী রেজিয়া বেগম দগ্ধ হন।

অভিযোগ করা হয়েছে, আগুন দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তাঁদের ওপর আবারও হামলা চালানো হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমরা চার ভাই। বাবার ১৭ বিঘা সম্পত্তি রয়েছে। আমাকে কোনো ভাগ দেওয়া হয়নি। এমনকি আমার কেনা পাঁচ বিঘা জমিও বড় ভাই দখল করে আছেন। সম্পত্তির ভাগ চাইলে আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, এজাহারের অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।