ফেনী সদর উপজেলার গোবিন্দপুরে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে উত্ত্যক্ত করে সেই ঘটনার ভিডিও টিকটকে পোস্ট করার অভিযোগে মোজাম্মেল হোসেন প্রকাশ হোসাইন (২০) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে। পরে সন্ধ্যায় শহরতলির লালপোল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
আটক মোজাম্মেল হোসেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মৈশাইল এলাকার মনির হোসেনের ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে ফেনী সদর উপজেলার উত্তর সিলোনিয়া মাদানিয়া মাদ্রাসা-সংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৮ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার কালীদহ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকায় অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন রহমানের বাড়ির সামনে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল শিশুটি। এ সময় কয়েকজন যুবক তার পথরোধ করে। তাঁদের মধ্যে দুজন শিশুটির হাত ধরে টানাটানি ও অশালীন আচরণ করেন এবং তাকে উত্ত্যক্ত করেন। এ সময় অপরজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে পরে টিকটকে প্রকাশ করে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পরদিন শিশুটি বিষয়টি তার বাবাকে জানায়। পরে ৩০ জুলাই সকালে স্বজনদের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি দেখে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত করে শিশুটির বাবা থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে শিশুটি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এবং প্রায়ই কান্নাকাটি করছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অপর দুই আসামি হলেন পশ্চিম সিলোনিয়া এলাকার মৃত জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে সালমান (২০) এবং যাত্রাসিদ্ধি এলাকার মনির আহাম্মদের ছেলে মাহফুজ (১৯)।
এ ব্যাপারে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নিশাত তাবাসসুম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। একটি ছোট্ট শিশুকে স্কুল থেকে ফেরার পথে এভাবে উত্ত্যক্ত করার ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত ও আটকের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সময়ে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ ও ভাইরাল ভিডিওর ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।