হোম > সারা দেশ > ফেনী

আদালতের এজলাসে বিচারপ্রার্থীর বিষপান, হাসপাতালে ভর্তি

ফেনী প্রতিনিধি

আদালতের এজলাসে বিষপান করা নারীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আজ দুপুরে ফেনীতে। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফেনীতে আদালতের এজলাসে বিচারকের সামনেই বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন তাহমিনা আক্তার মোহনা নামের এক বিচারপ্রার্থী। আজ রোববার দুপুরে ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অধীন ফুলগাজী আমলি আদালতে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর অবস্থায় তাঁকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের জেরে ফুলগাজীর চার সন্তানের বাবা আকবর হোসেনকে ২০২৫ সালে বিয়ে করেন মোহনা। তবে বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। মোহনার অভিযোগ, তিনি জানতেন না আকবরের আগে স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হাতে একাধিকবার নির্যাতন ও হামলার শিকার হয়েছেন তিনি।

এ ঘটনায় গত ২৯ জানুয়ারি স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন মোহনা। আজ রোববার ছিল মামলার ধার্য তারিখ। শুনানির সময় বাদী মোহনা ও বিবাদী আকবর হোসেন উভয়ই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুনানি শেষে আদালত আকবর হোসেনকে জামিন দিলে মোহনা হঠাৎ আদালত কক্ষে বিষপান করেন। পরে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে উপস্থিত আইনজীবী, পুলিশ ও আদালতের কর্মকর্তারা দ্রুত তাঁকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। 

বাদীপক্ষের আইনজীবী জহির উদ্দিন মামুন বলেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি, স্বামীর নির্যাতন ও বিচার না পাওয়ার হতাশা থেকেই মোহনা এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আদালতের পেশকার জসিম উদ্দিন জানান, দাম্পত্য কলহের জেরে মোহনা তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। রোববার ছিল ওই মামলার শুনানির দিন।

আদালতের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বলেন, বিচার কার্যক্রম চলাকালে ক্ষোভ ও হতাশা থেকে হঠাৎ বিষপান করেন তাহমিনা আক্তার মোহনা। পরে আদালতে থাকা লোকজন তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোহনা সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুই বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর আকবর আমাকে বিয়ে করেছে। বিয়ের আগে আমি জানতাম না তাঁর স্ত্রী-সন্তান আছে। বিয়ের পর থেকে আমি মারধর ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আদালতের শরণাপন্ন হয়েও বিচার পাইনি। আদালতে ওঠার আগে আমি তাঁকে বলেছিলাম আজ বিষ খাব, দেখিয়েছিও। পরে আদালতে বিষ খেয়ে ফেলেছি।’

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. রোকন উদ্দৌলা জানান, ‘বিষক্রিয়ার লক্ষণ নিয়ে মোহনাকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাঁর পাকস্থলী পরিষ্কার করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

এ বিষয়ে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মু. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। সম্ভবত ওই নারী তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক আইনে মামলা করেন। মামলার ধার্য্য তারিখে আদালত তাঁর স্বামীকে জামিন দিলে তিনি এজলাসে বিষপান করেন। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি, তদন্ত সাপেক্ষ পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ফেনীতে শিশুকে ধর্ষণ, ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ধর্ষক মসজিদের ইমাম নয়, বড় ভাই—ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় শনাক্ত

মাহবুব আলমকে ফেনীর এসপি পদে নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার আসামিকে পদ: ফেনীতে যুবদলের কমিটি স্থগিত

ছোট ফেনী নদীর তীব্র ভাঙন রোধের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

‘মে দিবস কী জানি না, আমাদের সব দিনই সমান’

ফেনীতে হামলার ভয়ে বন্ধ ২৮ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ

ফেনীতে এক ঘণ্টায় ১২৬ মিলিমিটার বৃষ্টি, শহরে জলাবদ্ধতা

চট্টলা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে ত্রুটি, ফেনী স্টেশনে ৫ ঘণ্টা ধরে আটকা যাত্রীরা

ফেনীতে প্রসূতির মৃত্যু: তদন্তে একাধিক অবহেলা ও চিকিৎসাগত ত্রুটির প্রমাণ