ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতার নাম চূড়ান্ত তালিকায় আসায় স্থানীয় পর্যায়ে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
গত রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিত ১৭৫ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকায় চরমজলিশপুর ইউনিয়নে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া আব্দুল্লাহ আল জাবের স্থানীয় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন।
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সরকারি প্রকল্পে দায়িত্ব পাওয়ায় স্থানীয় রাজনীতি ও নেটিজেনদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড শুমারি উপলক্ষে গত ২ আগস্ট সুপারভাইজার এবং ৪ আগস্ট তথ্য সংগ্রহকারী পদের জন্য পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দুটি পদে ছয় শতাধিক আবেদনকারীর মধ্যে থেকে উত্তীর্ণদের চূড়ান্ত তালিকা গত রোববার রাতে প্রকাশ করা হয়। তালিকা প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ক্ষোভ জানান অনেকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ আল জাবের জানান, তিনি সাধারণ পরীক্ষার্থী হিসেবেই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসবে, তা ভাবেননি।
বিষয়টি নিয়ে সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন বাবলু উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যক্রমে দায়িত্ব প্রদানের আগে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যাকগ্রাউন্ড যথাযথভাবে যাচাই করা আবশ্যক ছিল। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কেউ কীভাবে এমন দায়িত্ব পান, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারজান হোসাইন জানান, প্রকাশিত তালিকার দুজনের বিষয়ে তাঁদের কাছে অভিযোগ এসেছে। তিনি বলেন, ‘প্রাপ্ত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’